প্রিয় লিও,
এই চিঠি তোমার হাতে পৌঁছাবে কি না, জানি না। যদি পেয়ে থাকো, সবার আগে ভালোবাসা নিয়ো।
আকাশি পর্দাটা সরিয়ে এজেইজা চত্বরে তোমাদের উৎসব দেখছি। ইশ্! এই মিলনমেলায় যদি আমিও থাকতে পারতাম! জনতার সুরে গলা মিলিয়ে যদি গাইতে পারতাম ‘মুচাচোস’! কদিন আগেও এই গানে তোমরা গেয়েছ, ‘ডিয়েগো, ওই আকাশে দেখি তোমাকে।’ এখন গাইছ, ‘শান্তিতে ঘুমাও ডিয়েগো!’
ঘুমাই কীভাবে লিও! এই মিলনমেলার শেষ রেণুটুকু বাতাসে মিশে না যাওয়া পর্যন্ত দুই চোখের পাতা এক হবে না। চোখে মায়াঞ্জন মেখে তাকিয়ে আছি তোমাদের পানে, তোমরা যাকে আকাশ বলো, সেই পর্দাটা সরিয়ে। আজ তা আরও আকাশি, আরও গাঢ়—ঠিক তোমাদের মিলনমেলায় আমার মিশে যেতে না পারার গভীর দুঃখবোধের মতো।
প্রিয় লিও, আমার সন্তান, আমার আর্জেন্টিনার সন্তান! খুব ইচ্ছা করছে তোমাকে বুকে টেনে নিই। বুকে বুক মিলিয়ে বলি, বিশ্বকাপ জিতেছ লোকে দেখছে। কিন্তু আমি দেখছি অন্য কিছু। এই বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টাইনদের তুমি যেভাবে একসূত্রে গেঁথেছ, ৩৬ বছর আগে একবার এমন দেখা গিয়েছিল। আর দেখিয়েছিলেন আমাদের ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ ইভা পেরন।
বিশ্বকাপ ট্রফিটা সামান্য ধাতুতে গড়া স্বীকৃতি ছাড়া আর কিছু নয়। একটু সোনা-টোনা থাকতে পারে, ফিফা তো! কিন্তু আজকের এই মিলনমেলার মধ্য দিয়ে আর্জেন্টাইনদের মনে যে স্বীকৃতিটুকু তুমি পেলে, সেটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। চে বলছিলেন, দুনিয়াজুড়ে বিপ্লবের চাষাবাদ করেও জন্মভূমি রোজারিওতে তিনি সব সময় প্রাপ্য মর্যাদাটুকু পাননি। তুমি সেই রোজারিওরই সন্তান। তুমি পেরেছ লিও, তুমিই পারো!
ওই যে দেখো, লোকে তোমার নামে গান ধরেছে। এই গান অমর, অক্ষয়, অজর। আজকের পর থেকে তুমি যখনই রোজারিও কিংবা বুয়েনস এইরেসের রাস্তায় বের হবে, সবার চোখেমুখে এক পরম তৃপ্তির ছবি দেখবে। ওটাই আসল বিশ্বকাপ লিও, ওটাই আসল বিজয়!

