
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার একটি স্কুলে এক বন্দুকধারী ঢুকে সেখানকার শিশুদের জিম্মি করেন। তাঁর দাবি, তাঁর অপহৃত সন্তানকে উদ্ধার করতে হবে। না হলে শিশুদের ওপর গুলি চালাবেন ও পেট্রলবোমা ছুড়বেন। তিনি দাবি করেন, বারবার পুলিশের কাছে ধরনা দিলেও তারা তাঁর ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি।
পরে অবশ্য পুলিশ ওই বন্দুকধারীকে আটক করেছে। পুলিশের দাবি, এই ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। তাঁর নাম দেবকুমার বল্লভ। স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।
আজ বুধবার দুপুরে মালদহের মুচিয়া চন্দ্রমোহন স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের চোখ এড়িয়ে তিনি স্কুলে ঢুকে বারান্দায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষক প্রতিভা হেমব্রম ক্লাসে যাচ্ছিলেন। তিনি এই ব্যক্তিকে অভিভাবক মনে করেছিলেন। ভেবেছেন, হয়তো কারও কাছে এসেছেন। তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়াতে শুরু করার একটু পরই ওই ব্যক্তি বন্দুক উঁচিয়ে ক্লাসে ঢুকে পড়েন। তিনি টেবিলে পেট্রল ভরা দুটি বোমা রাখেন। হাতের পিস্তল উঁচিয়ে দাবি করেন, পুলিশ তাঁর অপহৃত ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি। তাই তিনি ছেলে উদ্ধারের দাবি তুলেছেন। বলেছেন, না হলে বোমা মারবেন ও গুলি চালাবেন।
ইতিমধ্যে এই ঘটনার কথা স্থানীয় থানায় পৌঁছে গেলে পুলিশ বাহিনী ছুটে আসে। মালদহের ডিএসপি আজহারউদ্দিন খান সাদাপোশাকে ওই ব্যক্তির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধরে ফেলেন। তখন তাঁর সঙ্গে অন্য পুলিশ সদস্যরা এসেও যোগ দেন। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে তল্লাশি করে দুটি পিস্তল ও প্যান্টের ভেতর থেকে একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।
মালদহের পুলিশ সুপার প্রদীপ যাদব সাংবাদিকদের বলেছেন, ওই যুবকের পারিবারিক সমস্যা রয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে। ওই ব্যক্তি কোথা থেকে পিস্তল সংগ্রহ করেছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে তিনি এমন ঘটনা যাতে আর না হয়, সে জন্য সতর্ক হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।

