বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আচ্ছালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আমরা মসলিম, আমাদের ধম ইসমাম। আমাদের পবিএ ধম গ্রন্থ হল-আল- কোরআন।ইসলাম ধম পাঁচটি খুটির উপর আবস্হিত।
যেমনঃ-
১।কালেমা।
২। সালাত অথ্যৎ নামাজ।
৩। সিয়াম অথ্যৎ রোজ।
৪। যাকাত।
৫।হজ্জ।
আমাদের অথ্যৎ মুসলমানদের জন্য সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ ও পুণ্যময় মাস হলো- রমজানুল মোবারক।
এই রমজান মাস মুমিনের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের কারণ হয়ে আগমন করে থাকে। তাই প্রত্যেক মুমিনেরই রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা। যেমনঃ- শারীরিক, মানসিক, বৈষয়িক ও অভ্যাসগত- সবক্ষেত্রেই পরিপূর্ণ তৈয়ার হতে হয়। এই রমজান মাস পর্যন্ত আয়ুষ্কাল প্রলম্বিত করার জন্য প্রভুর দরবারে অধিকহারে দোয়াও করতে হয়।
আমাদের প্রিয় নবী হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) রজব মাস থেকেই রমজানের প্রতীক্ষায় থাকতেন। তিনি এই উপলক্ষ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণে মনোযোগী হতেন। তিনি রজবের চাঁদ দেখা দিলে অধিক পরিমাণে নফল রোজা রাখা শুরু করতেন। তখন বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি কোরআনে কারিমের তেলাওয়াত বাড়িয়ে দিতেন। এছাড়াও তিনি তাসবিহ-তাহলিলে আগের তুলনায় বেশি যত্নবান হতেন। তা সমস্ত সাথী-সঙ্গীদেরকেও রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতেন।
আকাশে রজবের চাঁদ উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের নবী করিম (সা.) রমজান পর্যন্ত আয়ু বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং সাহাবিদেরকেও দোয়া করতে বলতেন। এ সময় বেশি বেশি এ দোয়া পাঠ করতেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী রাজাবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাজান। ’ অর্থাৎ হে আল্লাহ, তুমি রজব এবং শাবান মাসে আমাদের ওপর বরকত নাজিল কর এবং রমজান পর্যন্ত আমাদের হায়াত দীর্ঘায়িত করে দাও। তাই
প্রত্যেক মুসলমানের উচিৎ রমজানের প্রস্তুতি গ্রহণে মনোযোগী হওয়া। রমজানের প্রস্তুতিকল্পে এ বিষয়গুলো মনে রাখা দরকার। যেমনঃ-
শারীরিক প্রস্তুতিঃ- আমাদের অনেকেই গ্যাস্ট্রিক বা এ জাতীয় অন্য কোনো অসুখের দোহাই দিয়ে রোজা পালন থেকে বিরত থাকি। এটা মোটেও ঠিক না। এ ব্যাপারে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে তা আগেভাগেই সেরে নেওয়া দরকার। আমাদের শারীরিকভাবে পরিপূর্ণ সুস্থতা অর্জনের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
মানষিক প্রস্তুতিঃ আমাদের মধো অনেকেই হিজরি সন বা চান্দ্রমাসের খবর রাখে না ফলে হঠাৎ যখন শোনে, অমুক দিন থেকে রমজান আরম্ভ হবে- তখন অগোছালো থেকে যায়। তখন তারা রমজানের গুরুত্ব-মাহাত্ম্য যথাযথভাবে অনুধাবন করে না বা করতে পারে না। যার ফলে সঠিকভাবে রোজা-পালন করতে পারে না। আর তারা রোজা যদিও রাখে- তার জন্য এটি একটি ভারী আমল হিসেবে দেখা দেয়। যে কারণে তাদের জন্য রোজা তার জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনে না। অথচ যারা চাঁদের হিসেব রেখে এখন থেকেই নিজের মন-মননে রোজাপালন ও এ মাসের প্রভূত কল্যাণ লুফে নেওয়ার মানসিকতা গ্রহণ করে পরিপূর্ণ ভক্তি-শ্রদ্ধার সঙ্গে রোজাগুলো পালন করতে পারে।
বৈষয়িক প্রস্তুতিঃ-এই মাসের বৈষয়িক কাজকর্ম ও দুনিয়ার নানাবিধ ঝুটঝামেলা রমজান আসার আগেভাগেই কমিয়ে ফেলা দরকার। যাতে করে রমজানে বৈষয়িক কাজের ভারে ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়।
অভ্যাসগত প্রস্তুতিঃ- আমাদের এখন থেকেই নফল ইবাদত ও জিকির-আজকারের অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার। তাই এখন থেকে অভ্যাস গড়ে তুললে রমজানে ইবাদত-বন্দেগি বেশি বেশি করা যাবে বলে আশা করা যায়।
আসুন আমরা এই মাসটি কে গনিমত মনে করে বিভিন্ন আমলে ধাপাইয়া পড়ি এবং নিজের গুনা সমুহ মাপ নেই। আল্লাহ হাফেজ।


