বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
আচ্ছালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ আপনারা সবাই কেমন আছেন। আশা করি আল্লাহর রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমিও আল্লাহর রহমতে ভাল আছি আলহামদুলিল্লাহ।
আমি আজকে তিল এবং তিলের তৈল এর বিভিন্ন উপকারিতা নিয়ে আজকে এই পোস্টটি সাজিয়েছি। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।
আমাদের খাদ্য হিসেবে তিল খুবই জনপ্রিয়। এই তিল হইতে নাড়ু, মোয়া ইত্যাদি মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় থাকে এবং তিলের তেল আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই উপকারী। এছাড়াও তিলের তেল ব্যবহার করা হয় রূপচর্চার ক্ষেত্রেও। এই তিল পুষ্টির সমস্যা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই আমরা সুস্থ থাকার জন্য তিল ও তিলের প্রয়োজনীয়তা জেনে রাখা উচিত।
উপকারিতা:তিলের উপকারীতা নিচে জেনে নেব।
* আমরা প্রতিদিন ভোরে এক চামচ কালো তিল অল্প অল্প করে মুখে দিয়ে মিহি করে চিবিয়ে যখন রসের মতো হয়ে যাবে তখন গিলে খেতে হবে এবং এই তিল খাওয়ার তিন ঘণ্টা পর্যন্ত কিছু খাওয়া যাবে না। এই তিল খাওয়ার ফলে যারা মোটা তাদের মেদ কমে যাবে।
* আমাদের মধো যাদের শরীর বৃদ্ধি কমে যায়, তাদের শারীরিক বৃদ্ধির জন্য তিল খুবই উপকারী।
* যদি কারও মাড়ি থেকে দাঁত দুর্বল হয়ে থাকে তবে তাদের ক্ষেত্রে তিলের মাধ্যমে দুর্বল দাঁত মজবুত করা যায় বা সম্ভব।
* আমাদের যদি সর্দি, কাশি, বুকে কফ জমে যায়-এ জাতীয় অসুখে কালো তিলের তেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই তিল সর্দি, কাশির জন্য দ্রুত কাজ করে এবং ফলাফলও খুব ভালো হয়ে থাকে।
* আমাদের অনেকেরই অকালে চুল পেকে যেতে থাকে এবং দুর্বল হয়ে চুল পড়ে যেতে থাকে। আর এই সমস্যা নিরসনে কালো তিলের প্রয়োজন এবং এই তিলের তেল প্রয়োগ করলে খুব উপকার পাওয়া যায়। এমনকি টাকওয়ালা মাথায় চুল গজাতেও সাহায্য করে।
* এই তিল আমাদের শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং সব ইন্দ্রিয়ের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে থাকে।
* এই তিলের তেল শরীরের রং উজ্জ্বল করে দেয় এবং শরীরের ছোট ছোট দোষত্রুটি দূর করে থাকে।
* এই তিল বা তিলের তৈল মাথায় দিলে মাথার যন্ত্রণা কমিয়ে দেয় এবং বুদ্ধিবৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।
* আমরা যদি এই তিল, যব, চিনি চূর্ণ করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে যাঁদের বাচ্চা হবে অর্থাৎ সগর্ভা এবং যাঁদের বাচ্চা হয়েছে অর্থাৎ প্রসূতা বা প্রসূতির রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে থাকে।
* আমাদের যে সব শিশু রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে থাকে তাদের যদি আমরা কালো তিল আর তার সঙ্গে এক টুকরো মুলো খাওয়ালে ওই বদ-অভ্যাস দূর হয়ে থাকে।
* আমাদের শরীরের পুড়ে যাওয়া জায়গায় তিল পিষে নিয়ে, জলে ধোওয়া ঘি ও কর্পূর মিশিয়ে প্রলেপ দিলে সুফল পাওয়া যায়। এছাড়াও তিলের তেল গরম করে লাগালেও আশ্চর্য সুফল পাওয়া যায়।
* যদি আমাদের শরীরের কোনো অংশ খুব জ্বালা করতে থাকে তাহলে তিল দুধ দিয়ে পিষে প্রলেপ লাগালে দাহ বা জ্বালা দূর হয়ে থাকে।
* যদি আমাদের কাহারো টাটকা ক্ষত বা ঘা না সারে তাহলে তিল পিষে নিয়ে মধু আর ঘি মিশিয়ে লাগালে অনেক ওষুধ বা মলমের চেয়ে বেশি কাজ হয়ে থাকে।
* আমাদের কাহারো যদি রক্ত আমাশয় কালো তিল এক ভাগ, চিনি দু ভাগ, এবং ছাগলের দুধ চার ভাগ একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে রক্ত-আমাশা সারে যায়।
* যদি অল্প তিল আর চিনি একসঙ্গে পিষে বা কুটে নিয়ে মধু মিশিয়ে চাটালে বাচ্চাদের মল থেকে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে থাকে।
* মেয়েদের ঋতুস্রাব ঠিক মতো না হয় এবং খুব ব্যথা-বেদনা হয়ে থাকলে, তাহলে আমাদের এই তিলের তেল খাওয়া উচিত।
আসুন আমরা আমাদের দেহকে ঠিক রাখার জন্য তিল এবং তিলের তৈল নিয়ম মেনে খাই। আজকে এ পযন্তই আল্লাহ হাফেজ।


