পযায় সারণির পিছনের ইতিহাস!!!

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম 

 

প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি রসায়নের কিছু তত্ত্ব আবিষ্কারের পিছনের গল্প তুলে ধরবো। এই পোস্টে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম।

 

রসায়ন বা কেমিস্ট্রি; নামটি শুনে রসে ভরপুর মনে হলেও অনেক এর মতে সেরকম টি নহে। বরং অনেকের মতে এই বিষয়টিতে রসের বড়ই অভাব অর্থাৎ কঠিন মনে হয়। রসায়ন পড়তে বসে পর্যায় সারণীর মৌলিক পদার্থের তালিকা দেখেই ভড়কে যায় অনেকে। প্রতিটি সূত্র বা তত্ত্বের পিছনেই রয়েছে কিছু মজার গল্প ও অজানা ইতিহাস। চলুন জেনে নেয়া যাক, রসায়নের পর্যায় সূত্র এর পিছনের ইতিহাস কেমন ছিল?

                          পর্যায় সূত্র:

রসায়ন বিজ্ঞানে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল পর্যায় সারণি। এটি বিজ্ঞান বিভাগের সকলের কাছেই খুব পরিচিত এবং জানা আবশ্যক।

প্রাথমিকভাবে যখন পঞ্চাশটির মতো মৌল আবিষ্কৃত হয় তখনই বিজ্ঞানীদের মনে প্রশ্ন উঠে কিভাবে সমধর্মী মৌলগুলোকে বিশেষ পদ্ধতি বা সূত্রের ভিত্তিতে একটি টেবিল বা চার্টরূপে সাজানো যায়! এইজন্য সর্বপ্রথম মৌলগুলোকে ধাতু ও অধাতু এই দুই শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল, এভাবে বিন্যাস করলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে বা চার্টটি সম্পূর্ণ এবং সুনির্দিষ্ট হয় না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ১৮১৭ সালে জার্মান বিজ্ঞানী ডোবেরিনার সমধর্মী মৌলগুলোকে বিন্যস্ত করার জন্য একটি সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি তার নাম দেন ত্রয়ী সূত্র। তিনি বলেন যে,সমধর্মী তিনটি মৌলের মধ্যে উচ্চতর ও নিম্নতর পারমাণবিক ওজনের মৌল দুটির ওজন যোগ করে ঐ যোগফলকে ২ দ্বারা ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যায় সেটা প্রায় মধ্যবর্তী মৌলের ওজনের সমান হয়।

সূত্রটি কিছু কিছু মৌলের জন্য সঠিক হলেও সবগুলো মৌলের জন্য ঠিক হয় না। গবেষণা অব্যাহত থাকে যে আরো কিছু সূত্র আবিষ্কারের। ফলে ১৮৬৪ সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী নিউল্যান্ড অষ্টক সূত্র আবিষ্কার করেন। তার সুএমতে, মৌলগুলোকে যদি তাদের পারমানবিক ওজন মতে একের পর এক সাজানো যায় তাবে অষ্টম মৌলটি হয় প্রথম মৌলটির সমধর্মী। কিন্তু এভাবে ১৭ টি মৌলকে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় কিন্তু বাকিগুলোকে শ্রেনীবদ্ধ করা সম্ভব হয় না।

এরপর ১৮৬৯ সালে রূশ বিজ্ঞানী মেন্ডেলিফ সকল মৌলের পারমাণবিক ওজন এবং এদের ধর্ম লিপিবদ্ধ করে দেখতে পেলেন মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি তাদের পারমাণবিক ওজন অনুযায়ী পুনরাবৃত্ত হয়। সর্ব প্রথম মেন্ডেলিফ-এর সূত্রের ভিত্তিতে ৬৭ টি মৌল নিয়ে গঠিত হয় পর্যায় সারনী। এর নাম মেন্ডেলিফের পর্যায় সারণি। এ পর্যায় সারণির কিছু সীমাবদ্ধতা থেকে যায।

তাই সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার জন্য ১৯১৩ সালে বিজ্ঞানী বোর এক্স রে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখতে পান যে, মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলি তাদের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যার উপর নির্ভর করে। এর নাম দেন আধুনিক প্রায় সারণি।এরপর ১৯৮৯ সালে ইউপ্যাকের (IUPAC – International Union Of Pure And Applied Chemistry) সিদ্ধান্তক্রমে মৌলের সর্ব বহিঃস্তরের ইলেক্ট্রন সংখ্যা অনুযায়ী মৌলের শ্রেণীসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। এভাবেই যাত্রা শুরু হয় অত্যাধুনিক পর্যায় সারণীর।

আজকে পর্যায় সারণির আলোচনা এ পর্যন্তই সমাপ্ত পরে আরো কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে ইনশাল্লাহ । আল্লাহ হাফেজ

Comments