ভুতুড়ে গল্পের ব্যাখ্যা রসায়নের রস এর মাধ্যমে!!!

alim236

বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

 প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি রসায়নের অলৌকিকত্ব এবং ভয়ানক ভূতের গল্পের আসল রহস্য তুলে ধরব এই পোস্টে ইনশাআল্লাহ।

আমরা যারা গ্রামাঞ্চলে থাকি তারা ব্যপারটা ভালো জানি। আমরা রাতের বেলায় তখন বাড়ির বাইরে বের হই কোন কাজে তখন হঠাৎ আমরা দেখতে পাই ডোবার ধারে জঙ্গলের মত জায়গায় এক টুকরো আলো ভেসে বেড়াচ্ছে। সেই আলোটা এদিক সেদিক বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিশ্চয়ই ভুতের কাজ! আমরা যারা সাহসী তারা একটু এগিয়ে যায় ভুতটাকে ধরতে। কিন্তু লক্ষ্যেনীয় বা দূর্ভাগ্য, ঐ আলোটার কাছে যেতে না যেতেই আলোটা নিভে যায়। ভুতের আলোটা আমাদের বা আপনাকে দেখে উড়ে চলে গেছে!

ইংরেজিতে এই আলোকে বলি ‘Will-o’-the-wisps’. বাংলায় ডাকা হয় ‘আলেয়া’ নামে। আজকে চলুন যাই, বিজ্ঞানী‘আলেজান্দ্রো ভোল্টা (Alessandro Volta)’র সাথে দেখা করি। সর্বপ্রথম ১৭৭৬ সালে আলেজান্দ্রো ভোল্টা মিথেন গ্যাস আবিষ্কার করেন। তিনিই সর্বপ্রথম সন্দেহ করেন যে আলেয়ার আলোর মত ভূতূড়ে ঘটনার পেছনে মিথেন গ্যাসের হাত আছে। তাঁর দেওয়া সেই তত্ত্বই পরে আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা দিয়ে আরো নিখুঁত ও পরিশোধিত হয়েছিল।

পৃথিবীর বুকে সব গাছপালা, পশু-পাখি, মানুষ মূলত জটিল হাইড্রোকার্বন জৈব যৌগের সমন্বয়ে গঠিত। এই জৈব যৌগের উপাদান হলো কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন। এই জৈবযৌগ যখন উন্মুক্ত বা খোলা পরিবেশে পঁচতে থাকে তখন অক্সিজেন এর সাথে বিক্রিয়ায় বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে তৈরি হয় পানি, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং কিছু পরিমাণ তাপশক্তি। কিন্তু এই সব জৈব যৌগ পঁচার সময় যদি অক্সিজেন না পায় অথ্যৎ ধরুন এরা খোলা বাতাসে পঁচার বদলে যদি কোন পুকুর বা ডোবার পানির নিচে পঁচে রায় তবে সেই ক্ষেত্রে তো অক্সিজেন পাওয়ার সম্ভাবনা জিরো পার্সেন্ট হবে আর তখনই বাইপ্রোডাক্ট হিসেবে তৈরি হবে মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন, ফসফিন ইত্যাদি গ্যাস।

জৈব যৌগ থেকে উৎপন্ন এই মিথেন এবং ফসফিন গ্যাস যখন পানি নিচ থেকে বুদবুদের মাধ্যমে পানির উপরে ভেসে উঠবে তখন খোলা বাতাসের অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসবে আর তখন মিথেন গ্যাস ফসফিনের সাথে বিক্রিয়া করে নীল আলো উৎপন্ন করবে তখন সে টাকে দেখা যাবে আশেপাশের বাতাসে ভেসে বেড়ায়। এই ফসফিন গ্যাস হচ্ছে একটি দাহ্য গ্যাস। ইহা বাতাসের সংস্পর্শে এলেই স্বতস্ফূর্তভাবে জ্বলে উঠে থেকে। আর যখন ফসফিন বাতাসে তখন জ্বলতে থাকে তখন তা সাদা ধোঁয়ার সৃষ্টি করে থাকে। তাহার ফলে সেই নীল আলোর চারপাশে একটা ধোঁয়ার মত অবয়ব চোখে পড়া স্বাভাবিক কিছু নয়। আর যখন কোন সাহসী ব্যক্তি সেটাকে ধরতে যাবে তখন তার উপস্থিতিতে মিথেন এবং ফসফিন গ্যাসের মিশ্রণটা চারপাশে ছড়িয়ে যাবে এবং আলোটাও তখন হারিয়ে যাবে। সুতরাং ভুত ধরতে না পারার জন্যে দুঃখ করার কোনো কারণ নেই এবং ভয়ের ও কারন নেই।

পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশেই সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এসব ভুতের আলো আলো আর আলো নিয়ে অনেক মুখরোচক গল্প প্রচলিত রয়েছে। তাতে তারা বিভিন্ন রস কস মিশিয়ে অত্যন্ত প্রাণবন্ত করেছিল কিন্তু বিজ্ঞানী‘আলেজান্দ্রো রসকষহীন ভাবে এসব ব্যাখ্যা করে পুরো ব্যাপারটার অলৌকিক ভূতের গল্পের মুলে পা দিয়ে পিষ্ট করে ফেলেছেন।

রসায়নের রসায়নিক মজার ঘটনার ব্যাখ্যা গুলো আপনাদের কেমন লাগছে তা একটু জানালে খুশি হবো আল্লাহ হাফেজ।

Comments