ঘুমের মধ্যে বোবা ধরা বা গলা টিপে ধরা ইত্যাদি সমস্যার সমাধান!!!

alim236

বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম।

 আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু। 

প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমরা এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। যে বিষয়টি আমাদের সকলের জীবনে অন্তত একবার হলেও ঘটে থাকে।

আমরা সকলেই সাধারণত দিনে জেগে থাকি রাত্রে ঘুমাতে হয় আর এই ঘুম হলো আমাদের শরীরের জন্য বিশ্রাম স্বরূপ। অনেক সময় ঘুম থেকে ওঠার সময় আমরা বিভিন্ন সমস্যায় হয়ে থাকি যেমন কেউ উত্তর দিচ্ছে না হাত পা টিপে ধরছে গলা টিপে ধরেছে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে এমনকি হাত-পা কিছুই নড়াতে পারি না এবং আশে পাশে ছায়ার মত কি যেন আমাদের চোখে পড়ে। এটাকে আমাদের গ্রাম্য ভাষায় বলা হয় বোবা ধরেছে। এই জন্য আমাদের সকলেই প্রায় অনেক হুজুরের কাছে যাই যারা ফুকড এই তাবিজ-কবজ হাতে, গলায়, মাজায় ইত্যাদিতে ধুলায়। এই সমস্যা পরিত্রাণের জন্য আমরা কত না দরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি আসলে এই সমস্যার মূল কারণ নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ।

এই ঘটনার প্রধান কারণ হলোঃ- স্লিপ প্যারালাইসিস।

আমরা যারা স্লিপ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়েছিল বা হয়েছেন কিন্তু প্যারালাইজড অবস্থায় বিছানার পাশে ছায়ার মতো অনেক কিছুই আমরা অনুভব করে থাকি আর এরকম না দেখার সংখ্যা নেই বললেই চলে প্রথমে আমরা জানা দরকার কিভাবে ঘুমাই । আমরা যতক্ষণ জেগে থাকি এবং কাজ করতে থাকি ততক্ষন আমাদের শরীরে ‘এডেনোসিন (Adenosine)’ নামক এনজাইম জমতে থাকে এবং আমরা তখন একটু একটু করে ক্লান্ত হয়ে পড়তে থাকি। আমরা যখন ঘুমাইয়া পড়ি তখন মূলত এই এডেনোসিনগুলো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে নিঃশ্বেষ হতে থাকে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘মেলাটোনিন (Melatonin)’ নামক হরমোনের মাত্রাও একটু একটু করে বাড়তে থাকে। উপরোক্ত কাজটাই মুলত পুরো শরীরে তন্দ্রাভাব এনে দেয় । আবার যখন আমাদের শরীর জাগতে শুরু করে তখন মেলাটোনিন হরমোন সরে গিয়ে সেখানে বাড়তে শুরু করে ‘কর্টিসল (Cortisol)’নামক হরমোন। এই কর্টিসল হরমোনের কাজ হলো শরীরকে জানান দেয়া যে, ঘুম মোটামুটি শেষ হয়ে এসেছে ।

মহান আল্লাহ তায়ালা ঘুমের ঘরে আমাদেরকে সত্য স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই। আমাদের ঘুমের সময় আমাদের মস্তিষ্ক পাঁচটা ধাপ অতিক্রম করে থাকে। যেমনঃ স্টেজ-১, স্টেজ-২, স্টেজ-৩, স্টেজ-৪ এবং রেম স্লিপ । প্রথমত স্টেজ-১ হলো সবচেয়ে হালকা ঘুম এবং স্টেজ-৪ হলো সবচেয়ে ভারী ঘুম। এই স্টেজ-৪ হলো সবচাইতে বেশি ঘুম এই স্টেজের ঘুমে থাকা মানুষগুলোকে জাগানো খুব কঠিন।

এই স্লিপ প্যারালাইসিস ঘটে তখনই যখন আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন শরীর জাগার আগেই আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি জেগে উঠে। যখন আমরা টের পায় মে, শরীর এখনো জেগে উঠেনি তখন শুরু হয় হ্যালুসিনেশান। শরীর কেন জেগে উঠেনি বা অবশ কেন? সেই সমস্যার ব্যাখ্যা দাঁড়া করাতে আমরা ঘরের ভেতরে থেকেই জ্বিন-পরী-ভূত ইত্যাদি আমাদের আশেপাশে আছে বলে মনে করতে থাকি

 কিন্তু যখনই আপনার শরীরে অনুভূতি ফিরতে শুরু করে এবং পুরোপুরি অনুভুতি ফিরে পাই তখনই আমরা দেখি এইসব ভূতেরা একেবারে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।

আবার অনেক সময় স্লিপ প্যারালাইসিসের উলটো ঘটতে দেখা যায়। এটাকে বলা হয় ‘হিপনিক মায়োক্লোনিয়া । এক্ষেত্রে ঘটনা ঘটে হলো আমাদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি জাগার আগেই শরীর জেগে উঠে।যার ফলে দেখা দেয় সেই অশুভ আত্মারা আপনার হাত কিংবা পা ধরে হ্যাঁচকা টান মারছে, এমনকি বিছানা হতে টেনে ফেলে দিচ্ছে, কিংবা আদর করে মাথার চুলে বিলি দিচ্ছে। আবার আমাদের মনে হয় যে, কেউ আমাদেরকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি যে, আমরা বিছানার উপর শুয়ে আছি।এই পুরো ব্যাপারটা ঘটে স্টেজ-১ এর ঘুমে থাকা অবস্থায়। যেমনঃ স্টেজ-১ এর ঘুমে থাকা অবস্থায় শরীর আচমকা জেগে ওঠার ব্যাপারটা আমরা ধরে নিতে পারি যে অনেকটা কোন গাড়ি সরাসরি তৃতীয় কিংবা চতুর্থ গিয়ারে স্টার্ট করার মতো।

আমরা কিন্তু এখন স্লিপ প্যারালাইসিস সম্পর্কে জানলাম অতএব এটা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। স্লিপ প্যারালাইসিস হলো পুরোপুরি স্বাভাবিক একটা ঘটনা।এটা মুলত আমাদের ঠিকমত ঘুম না হওয়ার কারনে এই সমস্যা অবতারণা হয।

 আজকে এ পর্যন্তই আল্লাহ হাফেজ।

Comments