পাপকে না বলা এবং পুণ্যর পথে অগ্রসর হওয়া!!!
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজকে আমি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পাপ থেকে সরে আসা এবং পণ্যর দিকে অগ্রসর হওয়া নিয়ে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই। এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
পাপ মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায় আর পূর্ণ মানুষকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যায়। এ কথা চির সত্য।
মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মাখলুক বানাইছেন। আর এই শ্রেষ্ঠ মাখলুক হওয়ার জন্য আমি কখনোই আল্লাহর কাছে আবেদন করি নাই নিবেদনও করি নাই দরখাস্ত করি নাই কান্নাকাটিও করি নাই আল্লাহ তাআলা নিজের দয়া এবং মেহেরবানীতে অত্যন্ত আদর করে ভালোবেসে দরদী বন্ধু হয়ে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ মাখলুক বানাইছেন। আর এই শ্রেষ্ঠ মাখলুক হওয়ার পিছনে একমাত্র পরিপূর্ণ অবদান মহান আল্লাহ তাআলার। আমরা ইচ্ছা করলেও মানুষ হতে পারতাম না অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসেবে পৃথিবীতে আগমন করতে পারতাম আল্লাহ যদি না চাইতেন।
তাইতো সর্বপ্রথম মহান আল্লাহ তাআলার প্রশংসা আলহামদুলিল্লাহ। আমাদেরকে মহান আল্লাহতালা যত নেয়ামতের মধ্যে ডুবিয়ে রেখেছেন তা যদি আমরা পৃথিবীর যত গাছ আছে আর এই গাছগুলো যদি কলম হতো আর পৃথিবীতে যত পানি রয়েছে সাগর-মহাসাগর নদী সমুদ্র সব পানি যদি কালি হত আর আল্লাহর প্রশংসা যদি পৃথিবীর শুরু থেকে আজ অবধি এবং কেয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ আসবে সবাই যদি একযোগে একসাথে লেখা শুরু করে আল্লাহর প্রশংসা করা হয় তবুও মহান আল্লাহতালার প্রশংসা লিখে শেষ করা যাবে না। আমরা যত প্রশংসাই করি যত গুণকীর্তনি করি যত বড়ই ভাবি যত শক্তিশালী ভাবে আল্লাহতালা সেই কল্পনার ভাবা কল্পনার চাওয়া কল্পনার ভাবনার চেয়েও লক্ষ কোটি গুণ বেশি গুণের অধিকারী শক্তিশালী বড় করনেওয়ালার জাত। তিনি এমন করনেওয়ালা জাত তিনি যখন ইচ্ছা করেন কোন কিছু তৈরি করার তখন শুধু বলেন "হয়ে যাও" অমনি "হয়ে যায়"।
তিনি যাহা চান না তাহা যদি সমস্ত মানবজাতি সমস্ত জিন জাতি সমস্ত মাখলুক যত প্রকার রয়েছে সবাই যদি তার চেষ্টা করে তা কখনোই তাহা করতে পারবে না। আর আল্লাহ জাহাজ চাহেন তাহা কেউ কখনই রোদ করতে পারবে না। অর্থাৎ আল্লাহ যাকে ধ্বংস করতে চান তাকে রক্ষা করার মত আর কোন শক্তি সাত আসমান জমিন আরশ কুরসী লাহরে মাহফুজ কেউ রক্ষা করতে পারবেনা। আর যদি মহান আল্লাহ তা'আলা কোন কিছু রক্ষা করতে চান তবে এমন কোন শক্তি নেই এমন কোন জাতি নেই এমন কোন মাখলুক নেই তাহার ধ্বংস করতে পারে। অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম ছাড়া গাছের একটি পাতাও মাটিতে পড়তে পারেনা। আল্লাহর হুকুম ছাড়া ধূলিকণা ধুলা আকাশে উড়ে যাওয়ার পর সেই ধুলিকানা কোথায় পড়বে কোন দিক হয়ে পড়বে এবং কিভাবে পড়বে এটাও মহান আল্লাহতালার নির্দেশই পড়ে। অর্থাৎ মহান আল্লাহতালা সাত আসমান জমিন লাহুরে মাহফুজ সাত আসমান জমিনের মাঝে যা কিছু আছে সব কিছু তিনি একা নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি এক রাজাধিরাজ, সর্ব শক্তিমান, এক অদ্বিতীয়, পালনকর্তা, চিরঞ্জিব, অত্যন্ত সুক্ষ দেখনেওয়ালা, সব এলেম তিনি জানেন, অর্থাৎ যা দেখা যায় তাও তিনি জানেন যা দেখা যায় না তাও তিনি দেখেন, তাহার কাছে কোন কিছুই গোপন নেই। সবকিছু তাহার তার কাছে পরিষ্কার হিসেবে দেখা দেয়। তিনি এক সাথে সবাইকে দেখতে পারেন কিন্তু সবাই তাকে দেখতে পারে না। তিনি সবাইকে ধারণ করতে পারেন কিন্তু সবাই তাকে ধারণ করতে পারেন না। চর্মচক্ষু দ্বারা মহান আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। তিনি এক অদ্বিতীয় সর্বময় শক্তির অধিকারী সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
তিনি শুধু চান তার বড়ত্ব তার গুণাবলী সবাই প্রকাশ করুক তিনি প্রকাশ হতে চান প্রকাশ হতে তার ভালো লাগে তিনি যে বড় সেটা সবাই যেন জানে এই জানতে সে খুবই ভালো লাগে। তার বলতো তার কৃতিত্ব তার ক্ষমতা তার দান ইত্যাদি প্রশংসা যদি কেউ করে তিনি অত্যন্ত খুশি হন।
মহান আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত মেহেরবান দয়ালু। তাহার দোয়া এবং মেহেরবানী কোন সীমা নাই। তার করুণার কোন শেষ নেই। তার ভালোবাসার কোন শেষ নাই তার মমতার কোন শেষ নাই। তার দানের কোন শেষ নাই। তার মায়ার কোন শেষ নাই। তার ক্ষমার কোনো শেষ নাই। ক্ষমা করতে তিনি অত্যন্ত ভালবাসেন।
তার কুমার যে শেষ নেই দয়াল এবং মায়ার যে শেষ নাই তার কিছু উদাহরণ যদি আমরা দেখি তাহলে বুঝে আসবে। পৃথিবীতে প্রায় 800 কোটি মানুষ। এই ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে যারা মহান আল্লাহ তালাকে এক আল্লাহ বলে স্বীকার করে আল্লাহর গুণ কীর্তন করে তাদের কথা বাদই দিলাম যারা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না আল্লাহকে আল্লাহ বলে স্বীকার করে না যারা মনে করে এই পৃথিবী এমনি সৃষ্টি হয়েছে আবার এমনি বিলীন হয়ে যাবে। তাদেরকে আমরা বলি নাস্তিক। খোদা দ্রোহী। এরা আল্লাকে তো মানেই না আরো আল্লাহর বিরুদ্ধে অনেক গহিত কথাবার্তা তারা বলতেই থাকে। এসবের পরেও মহান আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে হায়াত দান করেন সুস্থ রাখেন অক্সিজেন দান করেন খাদ্য দান করেন বিপদ আপদ থেকে রক্ষা করেন। মহান আল্লাহতালা যদি অসীম দয়ালু মেহেরবান যদি না হতেন তাহলে তাদেরকে এমনভাবে যত্ন করে দয়া দিয়ে বেচে রাখতেন না খাদ্য দিতেন না অক্সিজেন দিতেন না সুস্থ রাখতেন না বিপদ আপদ থেকে উদ্ধার করতেন না। কিন্তু সবই করেন তাই আমরা বলতে পারি মহান আল্লাহতালা অত্যন্ত দয়ালু মেহেরবান।
এছাড়াও এই ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে মহান আল্লাহ তায়ালাকে একক না ভেবে বহু খোদা বা বহু প্রভুতে তারা বিশ্বাসী এমন জাতীয় পৃথিবীতে রয়েছে যারা হাজার দেবতার পূজা করে থাকে। তারা আল্লাহকে এক অদ্বিত মনে করে না। স্বীকারও করে না। সেই জাতিকেও মহান আল্লাহতালা তার রহমত মেহেরবানী দিয়ে পৃথিবীর আলো বাতাস এবং বিভিন্ন নিয়ামত দিয়ে বেছে রেখেছেন। এটা দয়াবান মেহেরবান অসীম দয়ালু মেহেরবান মহান আল্লাহতালা ছাড়া কেউ এমন দয়া দেখাতে পারে না।
মহান আল্লাহ তা'আলা তাঁর হুকুম আহকাম দিয়ে দুনিয়াতে পাঠাইয়াছেন আমাদের সবাইকে। তারমধ্যে একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। ইসলাম ছাড়া বাকি একটি ধর্ম মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত নহে। অথচ এই ইসলাম অর্থাৎ মুসলিম রয়েছে পৃথিবীতে প্রায় 200 কোটির মত। এই ২০০ কোটির মধ্যে অধিকাংশ অর্থাৎ ৯০ থেকে ৯৫ পার্সেন্ট মুসলমান হল নামে মুসলমান কাজে মুসলমান নয়। তারা মহান আল্লাহতায়ালার হুকুম আহকাম তো মেনে চলেই না বরঞ্চ মহান আল্লাহতালা যা নিষেধ করেছেন সেগুলো সব সময় করতে থাকে। এবং তারা সেগুলো করার জন্য একটু অনুশোচনাও করে না অর্থাৎ মহান আল্লাহ তালাকে দেখে যে একটু ভয় পাওয়া তাও পায়না। তারা আল্লাহর হুকুমের ব্যতিক্রম করতেই থাকে করতেই থাকে। এরপরেও তাদেরকে মহান আল্লাহ তা'আলা কোন গজবে পতিত করেন না। তাদেরকে সুন্দর জীবন উপকরণ দিচ্ছে। সুন্দর অঙ্গ পতঙ্গ দিচ্ছে। সুন্দর রিজিক দিচ্ছে। সুন্দর বাড়ি করার তৌফিক দিচ্ছে সুন্দর গাড়ি করার তৌফিক দিচ্ছে এবং মহান আল্লাহ তাদেরকে আলো দিয়ে বাতাস দিয়ে নেয়ামতে ভরপুর করে রেখেছেন যদিও তারা মহান আল্লাহতালার হুকুম পালন করেন না। এটা কিভাবে সম্ভব কারণ দুনিয়ার কোন মালিক তার অনুগত্য শ্রমিকরা যদি তার কথামতো কাজ না করে তার দেখানো মতে ইন্সট্রাকশন মতে কাজ যদি না করে তাহলে তার বেতন তিনি দেন না অথচ এমন দয়ালু মেহেরবান মহান আল্লাহতালা মানুষের মতো এমনটা করেন না কারণ তিনি তো মহান আল্লাহতালা মেহেরবান। কি সব সময় দয়া মায়া মমতায় সবাইকে সুন্দর ভাবে ঢেকে রেখেছেন এটা মহান আল্লাহতালার পক্ষে সম্ভব অন্য কারো পক্ষে সম্ভবই নয়। আর ইনি হলেন মহান আল্লাহতালা আমাদের মালিক আমাদের প্রভু। আমাদের একমাত্র আপন জন। তিনি ছাড়া আমাদের আর আপন বলতে পৃথিবীতে কিছুই নাই। আপন বলতে যে পৃথিবীতে কিছুই নাই তার প্রমাণ আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত পাইতেছি দেখতেছি বুঝিতেছি।
আমাদের সবার উচিত আমাদের যে এত দয়া এত মায়া এত মহাব্বত এত নিয়ামত মধ্যে ভরপুর করে রেখেছে। যে আমাদের মানুষ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন সেই মহান প্রভুর হুকুম আহকাম অক্ষর অক্ষরে পালন করা এবং তার প্রেরিত রাসূল হযরত মুহাম্মদ সঃ কে এবং তার আদর্শকে ধারণ করা। আমরা যদি মহান আল্লাহতালার হুকুম পালন করি এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সালামের আদর্শ বাস্তবে আমার জীবনে রূপান্তরিত করতে পারি তাহলে আমাদের স্থান হবে সুখময় শান্তিময় অনন্তকাল বসবাসের চির সুখের জিন্দেগী জান্নাত। আমি দোয়া করি সবাই যেন মহান আল্লাহ তালাকে মানে আল্লাহর হুকুম আহকাম পালন করে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামকে নবীর উপর গ্রহণ করে এবং তার আদর্শ ধারণ করে এবং মহান আল্লাহ তাআলার এর বিনিময় সুখের শান্তির জায়গা জান্নাত দান করবেন আমিন।


