একটু লাউ গাছ এর ফুল ফল এবং উপকারিতা নিয়ে কিছু কথা।

alim236

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহু।

 

আজকে লাউ গাছ লাউ গাছের নতুন কুঁড়ি ফুল ফল এবং কচি পাতা এবং বয়স্ক পাতা এবং একটি পেপে গাছের কিছু ফটোগ্রাফি নিয়ে আজকের এই পোস্টটি।

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি। আজকে আমি একটি লাউ গাছ এবং একটি পেঁপে গাছ এর ফটোগ্রাফি এবং শেষ সম্পর্কে কিছু কথা।

মহান আল্লাহ তা'আলা এই পৃথিবীতে অনেক মাখলুক সৃষ্টি করেছেন। যা ওলামায়ে কেরাম থেকে শোনা যায় প্রায় ১৮ হাজার মাখলুকাত আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন আবার কোন কোন ক্ষেত্রে শুনতে পাওয়া যায় যে শুধু আঠারো হাজার না কতগুলো সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তায়ালা নিজেই জানেন আর কেউ সঠিক সংখ্যা জানেন না। যাহোক যার সৃষ্টি করেছেন মহান আল্লাহতালা সে ব্যাপারে ভালো জানেন আমরা এ সর্ব চক্ষু দ্বারা যতটুকু দেখে থাকি ততটুকুর প্রশংসা করি আমরা শেষ করতে পারবো না। যাহোক আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালা আমাদের চারপাশে তার অসংখ্য নিয়ামত দিয়ে মাখলুকাত দিয়ে ভরপুর করে রেখেছেন এবং আমাদের সেবা করাইতেছেন।

এই যে একটি লাউ গাছ। এটি প্রথমে ছোট্ট একটা বীজ আমরা মাটিতে রোপন করি। এরপর এই ছোট্ট ব্রিজ থেকে একটা ছোট্ট দু পাতা ওয়ালা গাছ গজায়। উদ্ভিদের যে বৈশিষ্ট্য তা হল আলোর দিকে বর্ধিত হয়। সেই কারণে মাটির নিচে রাখলেও সেটি মাটি ভেদ করে উপরের দিকে আসে অর্থাৎ আলোর দিকে আসে। এরপর সেই ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

এরপর যদি আমরা লক্ষ্য করি যে এই লাউ গাছ প্রথমে কিছু ডালপালা গজায় গজাইয়া নির্দিষ্ট স্থানে সে অনেক বিস্তার লাভ করে ছবিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে এখানে একটি লাউ গাছ সে তিন থেকে চারটি ডালপালা তৈরি করেছে এবং এই বাঁশের তৈরি মাচাতে সে বিজলা লাভ করছে এটি আমি শীতকালে আগমনের এই ভোর বেলায় ছবিটা তুলেছি।

এরপর লক্ষ করেন যে এই গাছ প্রথমে কিছু পুরুষ ফুল বা ফুলের কুড়ি ধরতে থাকে। চিত্র তো দেখতে পারছেন যে এই লাউ গাছের কুঁড়ি কেমন হয় এই কুঁড়ি ধীরে ধীরে বড় হয় বড় হওয়ার পরে সে পরিপূর্ণ হওয়ার পর যখন ফুটতে থাকে তখন খুব সুন্দর লাগে।

 

এই করি যখন সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হয় যা আপনারা চিত্রতে দেখছেন যে আমি এই লাউ গাছটির বেশ কয়েকটি সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত ফুলের ছবি পোস্টে শেয়ার করেছি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এটা আসলে দেখতে খুবই সুন্দর। এই ফুলগুলো সাধারণত সাদা বর্ণের হয় পাপড়িগুলো একত্রে মিলানো থাকে বা জোড়া লাগানো থাকে। এটা একটা পুরুষ ফুল অর্থাৎ পুংলিঙ্গ ফুল এর মধ্যে পরাগধানী থাকে।

 

এই ফুলগুলোতে সকালবেলা অর্থাৎ সারাদিনই প্রায় বিভিন্ন ভোমরা মৌমাছি ইত্যাদি এই ফুলগুলোকে মধু সংগ্রহের জন্য তারা দ্রুত চলে আসে। আসার পর তারা এই ফুলগুলো থেকে মধু সংগ্রহ করতে থাকে এই মধু সংগ্রহ করার অজান্তেই তাদের পায়ে পরাগ ধানি গুলো আঠার মত লেগে যায়। এরা যতগুলো ফুলে ঘুরতে থাকে ঠিক ততগুলো ফুলের পরাক্রেন ও তার পায়ে লেগে যায়।

এই লাউ গাছগুলোর স্ত্রীলিঙ্গ ফুল ও ধরে কিন্তু পুংলিঙ্গ ফুল ধরার বেশ কিছু পরে প্রায় ৭ থেকে ৮ টি পূর্ণ লিঙ্গ ফুল ধরার পর স্ত্রীলিঙ্গ ফুল ধরে থাকে। আরে স্ত্রীলিঙ্গ ফুলো ঠিক পুংলিঙ্গ ফুলের মতই সাদা বর্ণের হয় পাপড়িগুলো জোড়া লাগানো। যা আপনারা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন। যা আমি আমার মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে সকালবেলা ফটোগুলো ধারণ করেছে। এইচপি লিঙ্গ ফুল যখন প্রসফরিত হয় তখন মধু সংগ্রহের জন্য ওই পুংলিঙ্গ ফুলে ঘুরে বেড়ানো কীটপতঙ্গ আতাত মৌমাছি ভোমরা ইত্যাদি যখন এই স্ত্রী লিঙ্গ ফুলে এসে মধু সংগ্রহ করতে চায় তখন ওই পরাগ রেনিগুলো স্ত্রীলিঙ্গ ফুলের আঠা লাগানো গর্ভাশয়ে লেগে যায়। যে উদ্দেশ্যে স্ত্রী লিঙ্গ ফুলটির গর্ভাশয় আঠালো ছিল যে কারণে সেই কারণ সেই উদ্দেশ্য ফুলটির পূরণ হয় যখন কোন ভোমরা বা কোন মৌমাছি সেই আঠা লাগানো ফুলে মধু সংগ্রহের জন্য আসে। 

এরপর জায়গা তৈরি হয় জায়গোর তৈরির পরে সেই স্ত্রীলিঙ্গ ফুলের গর্ভা ছয়টি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে যা আপনাদের এই চিত্রের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছেন সেই রকম হয়ে থাকে। ছোট সময় এই লাউটি ঠিক অবিকল বড় লা এর মতই দেখতে কিন্তু আকারে অনেক ছোট থাকে। ধীরে ধীরে পরিপূর্ণ লাউয়ে পরিণত হয়।

এছাড়াও এই লাউ গাছের কচি পাতা গুলো দেখতে পাচ্ছেন কত সুন্দর। এই পাতাগুলো গ্রাম অঞ্চল কিংবা শহর অঞ্চলের সবাই খুব পছন্দ করে এটি ভর্তা বানিয়ে খেতে পারে অথবা ভেজে শাক হিসেবে খেতে পারে। যা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু।

 

এছাড়া এর যে লাউ ধরে সেই লাউ টাকি মাছ দিয়ে রান্না করে খেলে অনেক সুস্বাদু লাগে যা শীতকালে সকালে এর মজা সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। এই লাউ বোয়াল মাছের সাথেও সুন্দরভাবে ম্যাচিং হয় যা গ্রাম অঞ্চলের মানুষ অত্যন্ত পছন্দ করে থাকে।

 

এরপর আমরা একটি পেঁপে গাছ এর ছবি এবং কিছু ফুলপুরি অবস্থায় এবং কিছু ফল এর ফটোগ্রাফ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন এটি একটি পেঁপে গাছ যা অসংখ্য পেঁপে ধরে থাকে কিন্তু এ গাছটি মাত্র দু মাস ধরে রোপন করা হয়েছে সবেমাত্র ফুল ধরেছে বড় হচ্ছে। এই পেঁপে গাছ প্রায় তিন থেকে চার বছর সে ফল দিতে থাকে ফল দেওয়া শুরু করলে মৃত্যু পর্যন্ত সে ফল দিয়ে যায়। এই পেঁপের তরকারি আমাদের অনেক রোগ প্রতিরোধ হিসেবে ব্যবহার হয় যেমন পেঁপের তরকারি খেলে গ্যাসের সমস্যা থাকে না। পেট অনেক ভালো থাকে যা আমাদের গ্রাম বা শহর বলেন সব জায়গায় এ পেঁপের কদর অত্যন্ত বেশি। এ পেঁপে তরকারি হিসেবে খাওয়া যায় এমনকি এই পেঁপে যখন পাওয়া পাকে তখন এটি অত্যান্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ একটা ফল হিসেবে আমরা রোগীদেরকে বেশি খাওয়াইয়া থাকি।

এই পেঁপে গাছের ছোট্ট একটি কালো রঙের বীজ থেকে ছোট্ট একটা গাছ হয় আর সেই গাছ ধীরে ধীরে অনেক বড় হয় ফুল ফল ধরে থাকে। এই পেপে গাছের পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রীলিঙ্গ ফুল ধরে থাকে পৃথক পৃথক গাছে। যে গাছে পুংলিঙ্গ ফুল ধরে সেই গাছে কখনোই ফল ধরে না। আর চেক আছে স্ত্রীলিঙ্গ ফুল ধরে থাকে সেই গাছে কখনো পুংলিঙ্গ ফুল ধরে না। এরা কীট পতঙ্গের উপর নির্ভর করে পরাগায়ন ঘটে থাকে।

এর পাশাপাশি আমি সূর্যোদয়ের দুই একটি ছবি তুলেছি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম আসলে সকালে সূর্য উদয় উদিত হওয়ার সময় দেখতে অনেক মনোরম সুন্দর লাগে। তাইতো এই সূর্যোদয় এবং সূর্য অস্তের দৃশ্য দেখার জন্য হাজার হাজার পর্যটক বাংলাদেশে আসে এমনকি বাংলাদেশের সব প্রান্ত থেকে মানুষ কুয়াকাটায় ভিড় জমায় এর সূর্য উদয় এবং অস্তের দৃশ্য দেখা এবং ধারণ করার জন্য। কিন্তু আমরা নদীর কিনারে বসবাস করার কারণে এখানে সূর্যদের দৃশ্য খুব সুন্দর ভাবে আমরা অবলোকন করতে পারি। এটা গ্রামের মুভি তোর বা নদী থেকে দূরে কেউ এটা উপভোগ করতে পারবে না এটা উপভোগ করতে হলে নদীর কিনারে আসতে হবে।

আজকে এই ফটোগ্রাফ এবং লাউ গাছ এবং পেপে গাছ এর ফটোগ্রাফ এর ছবিগুলো শেয়ার করি এখানে বিদায় নিচ্ছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments