বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
প্রিয় সাথী বৃন্দ, আমি এই আজকের শীতের আগমনের একটি সকালে আল্লাহর রহমতে অনেক ভালো আছি সুস্থ আছি। আপনারা সবাই কেমন আছেন জানিনা তবে আশা রাখি আল্লাহর মেহেরবানী তো অনেক ভালো আছেন।
মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত এবং পিতা খুশিতে আল্লাহতালা খুশি।
মা শব্দটি এতই মধুর এতই ব্যবহৃত হয় যা অন্য কোন শব্দ পৃথিবীতে এত প্রতিধ্বনিত হয় না। এরপর বাবা শব্দটি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। পৃথিবীতে প্রায় 20 আড়াই হাজার থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার মতো ভাষা রয়েছে । প্রত্যেক ভাষাতেই প্রত্যেক জাতি প্রত্যেক উপজাতি প্রত্যেক গোষ্ঠীতেই মা শব্দটি বহুল বাবিদ্র একটা শব্দ শুধু বাংলা ভাষা নয় এটা যেই ভাষায় হোক না কেন যে গোষ্ঠী হোক না কেন যে জাতি হোক না কেন সেই জাতির মোদি মা শব্দটি সবচেয়ে বেশি ব্যাবহিত একটি শব্দ। আজকে এই মা এবং বাবাকে নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আমরা এই পোস্টটি শেয়ার করব এই পোস্টটা আপনাদের সকলকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে রুহু জগতে একসাথে সবাইকেই সৃষ্টি করেছেন। মহান আল্লাহতালা সবাইকে সৃষ্টি করার পর এই পৃথিবী শুরু থেকে অর্থাৎ হযরত আদম আলাই সাল্লাম থেকে শুরু করেছেন আজ অবধি দলে দলে আমাদেরকে এই পৃথিবীর বুকে পাঠাইতেছেন এবং কেয়ামত পর্যন্ত আমাদেরকে এভাবেই পরীক্ষার জন্য এই পৃথিবীতে পাঠাইবেন। আর এই পাঠানোর আল্লাহ তাআলার মাধ্যম হলো মা বাবার মাধ্যমে আমাদেরকে এই পৃথিবীতে পাঠাইয়া থাকেন। মহান আল্লাহতালা ইচ্ছা করলে মা-বাবা ছাড়া হয়ে পৃথিবীতে আমাদেরকে পাঠাতে পারবেন এটা তার পক্ষে একান্তই সহজ কাজ। কিন্তু মহান আল্লাহ তা'আলা একটা সিস্টেম একটা পদ্ধতি বাতলে দিয়েছেন যে এইভাবে আমি আমার এই মানবজাতির রুহুকে পৃথিবীতে পাঠাবো। আর মহান আল্লাহতালা তেমনিভাবে আমাদেরকে পৃথিবীতে পাঠাইয়া থাকেন।
আমরা প্রথমে বাবার উদর থেকে মায়ের গর্ভে স্থানান্তরিত হয় এরপর সেখানে ধীরে ধীরে তিলে তিলে একটা সুরক্ষিত জায়গায় মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে বড় করতে থাকেন। প্রায় চার মাস পর আমাদের ছোট দেহে মহান আল্লাহতালা রুহ ফুকে দেন। এরপর আমরা অর্থাৎ আমাদের হাত তৈরি হয় পা তৈরি হয়, মাথা তৈরি হয় হার্ট তৈরি হয় চোখ তৈরি হয় নাক তৈরি হয় কান তৈরি হয়। পর্যায়ক্রমে সবকিছুই সৃষ্টি হওয়ার পরে প্রায় ১০ মাস পর আমরা আল্লাহর হুকুমে মায়ের গর্ভ থেকে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। এই ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মায়ের কি পরিমান কষ্ট হয় তা বলে বুঝানো সম্ভব হবে না যে মা সন্তান প্রসব করেছে তাকে জিজ্ঞেস করলেই সে এর বেদনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা দিতে পারবে। এরপর সেই ছোট্ট শিশুকে মা এবং বাবা দুজনেই অনেক কষ্ট অনেক যত্ন অনেক আদর করে তিলে তিলে তাকে বড় করে তোলেন। শুধু বড় করেই তোলেন না ছেলেকে বা মেয়েকে অর্থাৎ তার ছোট্ট শিশুকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একসময় পরিপূর্ণ বয়স্ক হওয়ার পর সন্তানের বিয়ে-শাদী আয় রোজগার পথ পেয়ে যায়।
ছেলেমেয়ে বিয়ে-শাদির পর তারা নতুন জীবন শুরু করে নতুন একটি মানুষকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। আসার পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় ছেলে তার বাবা-মাকে আর দেখতে পারে না বাবা মাকে ভরণ পোষণ করে না বাবা-মাকে ভাত দেয় না। আমিও তার শশুর শাড়ীর শরীরকে দেখতে পারে না তাদের সাথে মিল থাকে না তাদের সাথে ঝগড়াঝাটি করে তাদের সাথে হিংসা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে। এক সময় তারাপীত হয়ে যায় বাবা-মার সাথে একসাথে আর থাকে না। তারা আলাদা সংসার শুরু করে। আলাদা সংসার শুরু করার পরে বাবা মায়ের খোঁজ আর রাখে না।
আমরা জানি স্ত্রী সাধারণত স্বামীকে ভালবাসে ভালোবাসার চেষ্টা করে বা ভালোবাসা উজার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু তারা তার অর্থাৎ তার স্বামীর মায়েকে অর্থাৎ শাশুড়িকে এবং শশুরকে দেখতে পারেনা ভাত দেয় না অর্থাৎ তাদের সহিত ভালো ব্যবহার করেনা। এমনকি ওই ছেলেকেও মা বাবা হতে দূরে সরাইয়া রাখে মা-বাবার সাথে কথা বলতে দেয় না মা-বাবা কে ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে দেয় না। আসলে এই স্ত্রী স্বামীর ভালো চায়না। স্বামীকে যদি প্রকৃত ভালোবাসতো ভালোবাসা থাকতো তাহলে সর্বপ্রথম তার মা-বাবার প্রতি সহমর্মিতা ভালবাসা চেনো মায়া মমতা এবং ভরণ পোষণ সেবা যত্ন ইত্যাদি করত। স্ত্রী যদি তার শশুর শাশুড়িকে ভালবাসে সেবা-যত্ন করে তখন ছেলে যদিও বিরূপ মনোভাব থাকে তারপরও সে মা-বাবার প্রতি অত্যন্ত সহমর্মী এবং ভালোবাসা পূর্ণ হয়ে ওঠে তাদেরকে ভরণপোষণ তাদেরকে দেখাশোনা তাদের আদর যত্ন ইত্যাদি করতে থাকে।
মা বাবাকে যারা কষ্ট দেয় মা বাবাকে যারা ভরণ পোষণ করে না মা-বাবার সাথে যারা খারাপ আচরণ করে মা বাবাকে যারা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়। তাদের সম্পর্কে দুই চারটি কথা এখন উপস্থাপন করব।
মহান আল্লাহ তা'আলা বলেছেন মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। আর বাবা খুশিতে মহান আল্লাহতালা খুশি। এছাড়াও প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর হাদিসে রয়েছে মায়ের সাথে তোমরা উ শব্দটিও করোনা। এই হাদিসের মানে হল মা বাবার সাথে কোন প্রকার উচ্চকথা উচ্চ বাক্য করা যাবে না। খারাপ ব্যবহার খারাপ আচরণ অশ্লীল ভাষা ভরণপোষণ না করা সেবা-যত্ন না করে এগুলো তো পরের কথা। তাদের মুখের উপর মুখ রেখে কথাই বলা যাবে না অর্থাৎ উঃ শব্দটিও বলা যাবে না। আর বাবার সাথে অত্যন্ত ভালো ব্যবহার করতে হবে এমন ব্যবহার করা যাবে না যে ব্যবহার সে মনে দুঃখ পায় কষ্ট পায় বাবা যদি কষ্ট পায় তাহলে মহান আল্লাহতালা কষ্ট পাবে আল্লাহ তাআলা তার পুরো রাগান্বিত হবেন তারপর খুশি থাকবেন না।
এখন আমরা যদি বলি যারা মা-বাবার সাথে খারাপ ব্যবহার করে তাদেরকে আদর যত্ন চিহ্ন ভালোবাসা দেয় না এমনকি তাদেরকে পরিবারের সাথেও রাখে না তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে নিয়ে রেখে আসে। এই সন্তান গুলোকে আমি বলি বা এই মানুষগুলো সম্পর্কে আমি কিছু কথা বলি তাহলে যে তোমরা এই ক্ষণস্থায়ী জিন্দেগীতে কতদিন থাকবা এটা তো থাকার জায়গা না এটা তো একটা পরীক্ষার হল নির্দিষ্ট সময় পরীক্ষা দিয়ে আবার মহান আল্লাহতালার কাছে চলে যেতে হবে। আর এখানে মা-বাবা হল প্রথম পরীক্ষা যাদের সাথে ভালো ব্যবহার ভালো আচরণ মরণ পোষণ ইত্যাদি করতে হবে। আর সেখানেই তোমরা তাদেরকে যদি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসো তাহলে তোমরা আল্লাহর হুকুম কতটুকু পালন করলে এবং আল্লাহ তাআলার হুকুমের গণ্ডির মধ্যে কতটুকু থাকলে তোমাদের উপরই ছেড়ে দিলাম। তোমরা হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহর সামনে কি উত্তর দেবে কি জবাব দিবে। তোমরা কি জান্নাত চাইতে পারবে বা যাইতে পারবে? মুসলমান হিসেবে যদি একদিন জান্নাতে যাইবা তবে এর আগে কি পরিমান জাহান্নামের কষ্ট তোমাকে ভোগ করতে হবে তাকে কখনো একটু ভেবে দেখেছো।
জাহান্নামের আগুনের তেজ কত এটা আমরা কোরআন এবং হাদিস থেকে জানতে পারি যার দুনিয়ার আগুনের ৬৯ গুণ বেশি তেজ থাকবে যে আগুনের রং হবে কালো বর্ণের যে আগুন শরীলে স্পর্শ করার আগেই কলিজা কি ভুনা করে দিবে। এই আগুনকে কি তোমরা সঙ্গী করিতেছ? এছাড়াও জাহান্নামের বিশাল বিশাল সাপ হবে বিশাল বিশাল বিচ্ছু হবে যা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত দংশন করতে থাকবে। এছাড়া জাহান্নামের আযাবের ফেরেশতা হবে যে আযাবের ফেরেস্তা চোখে দেখবে না কানে শুনবে না কোন অনুভূতি থাকবে না শিক্ষা শুধু আজাব দিতেই থাকবে দিতেই থাকবে। এ ছাড়া জাহান্নামের রক্তপুরুষ মিশ্রিত গরম টগবগে পানি খেতে দেওয়া হবে যা কখনোই কেউ খেতে পারবে না অথচ জাহান্নামিরা তা ভক্ষণ করবে আর ভক্ষণ করার পরে দাড়ি ভরি পিছনে রাস্তা দিয়ে বের হয়ে যাবে। এছাড়াও জাহান্নামের ঠান্ডা এবং গরম যা সহ্য হইবার নয়। এছাড়া জাহান্নামের জাককুম ফলের কথা বলা হয়েছে যা তিক্ত, তা যার বিষাক্ততা যদি দুনিয়ায় দেওয়া হতো তাহলে দুনিয়ার বুকে কোন উদ্ভিদ প্রাণী বসবাস করা সম্ভব হতো না। এছাড়াও জাহান্নামের আরো কত ধরনের হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ধরনের আজাব রয়েছে যা কখনোই সহ্য হইবে না।
তাই আসুন আমরা মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করি শিশুকালে যেমন আমাকে ভরণ পোষণ করেছেন আদর যত্ন করে লালন করেছেন বড় করেছেন তাদের বৃদ্ধ বয়সে আমরা সেভাবে শিশুর মতই তাদেরকে আগলে রাখি ভালোবাসতেন স্নেহ মায়া মমতা দিয়ে তাদেরকে সেবা যত্ন করি। তারা যেন আমাদের উপর খুশি হয়ে যায় আমাদের প্রতি রাজি হয়ে যায় তবে মহান আল্লাহতালা খুশি হবেন এবং আমাদের প্রতি রাজি হবেন এবং আমাদের প্রতি খুশি এবং রাজি হয়ে আমাদের পরম সুখের জিন্দেগী জান্নাত দান করবেন। আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহ হাফেজ।
।


