পারমানবিক বোমা ও হাইড্রোজেন বোমার শক্তি!!!

alim236

বিসমিল্লাহি রহমানের রাহিম।

 আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। 

প্রিয় সাথী বৃন্দ আজকে আমি পারোমানিক বোমা তৈরি হয় কিসের মাধ্যমে তা নিয়ে এই পোস্টে আলোচনা রাখছি। পোষ্টটে আপনাদের সকলকে স্বাগতম।

 

বিশ্বের সর্বপ্রথম জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যথাক্রমে ৬ই আগষ্ট ও ৯ই আগষ্ট, ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু বোমা হামলা চালিয়েছিল তাতেই সারা বিশ্বে পরমাণু বোমার ভয়বহতা দেখতে পায়েছিল সেইদিন বিশ্ববাসী। জাপানের ওই দুটি অঞ্চলে এখন পর্যন্ত বিকলঙ্গ শিশুর জন্ম হয়েই চলছে। আজ বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সেই পরমাণু বোমার চেয়েও অধিক শক্তিশালী ‘হাইড্রোজেন’ বোমার সফল পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়ার মতো একটা ছোট দেশ। উত্তর কোরিয়ার সেই হাইড্রোজেন বোমাটি পরীক্ষা চালানোর সময় প্রায় ৫ রিক্টরস্কেল এর কিছুটা বেশি মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল। 

আমরা গত পোষ্টে জেনেছি অনু এবং পরমাণু সম্পর্কে। পারোমানিক বোমা দুই ধরনের একটি হল অত্যাধিক শক্তিশালী আরেকটি হলো শক্তিশালী। যে পরিমাণে বোমাটি অত্যাধিক শক্তিশালী সেটি তৈরি হয় ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে আর যেটি শক্তিশালী সেটির বিক্রিয়ার নাম হল ফিশন বিক্রিয়া। উভয় বিক্রিয়াটি চেইন বিক্রিয়া।

আমরা জানতে পেরেছি যে পরমাণু বোমা ও হাইড্রোজেন বোমা তৈরির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং আলাদা। পরমাণু বোমার শক্তি সৃষ্টির উৎস হল ‘নিউক্লিয়ার ফিশন। এই প্রক্রিয়ায় পরমাণু বোমা বানানো হয় তার শক্তি তুলনামূলকভাবে হাইড্রোজেন বোমার থেকে অনেক কম এবং কম শক্তিশালী। এই পদ্ধতিটা হলো একটা ক্ষুদ্র পরমাণুকে দুই বা ততোধিক ক্ষুদ্রতর ও হাল্কা পরমাণুতে ভাঙা হয়, ফলে বেরিয়ে আসে প্রচুর পরিমাণে শক্তি। আর হাইড্রোজেন বোমার শক্তি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া টির নামঃ নিউক্লিয়ার ফিউশন। এই প্রক্রিয়াটি মাধ্যমে যে বোমা বানানো হয় তার শক্তি অত্যাধিক পরিমাণে বেশি। এই প্রক্রিয়ায় যে বোমা গুলো বানানো হয় সেটি হল শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা। এই পদ্ধতিটা হলোঃ দুই বা ততোধিক ক্ষুদ্র পরমাণুকে একত্র করে বা যোগ করে অনেক বড় ও ভারী পরমাণু বানানো হয় এবং এর থেকে বেরিয়ে আসে আরও অনেক বেশি শক্তি। ফলে হাইড্রোজেন বোমাটি হয় অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী। এই বোমা টির নাম হাইড্রোজেন বোমা হওয়ার কারণ হলো যেহেতু এই বোমাটি তৈরি হয়, দুই বা ততোধিক হাইড্রোজেন পরমাণুকে একত্রে যুক্ত করে তৈয়ার হয়, তাই এই বোমা টির নাম দেওয়া হয়েছে হাইড্রোজেন বোমা। এখন আমরা জানব কোন বোমাটি বানানো বেশি কঠিন জটিল প্রক্রিয়া পরমাণু বোমা নাকি হাইড্রোজেন বোমা। তবে এর উত্তর খুঁজতে হলে নির্দ্বিধায় বলে দেওয়া যায় হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করতে হবে বেশি জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কি কারনে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা এত কঠিন সে বিষয়ে আমরা একটু আলোকপাত করি। কারনটা হল নিউক্লিয় ফিউশন প্রক্রিয়া এর জন্য প্রচুর পরিমাণে তাপমাত্রা অর্থাৎ তাপ শক্তির প্রয়োজন হয় যা প্রায় 10 লক্ষ সেন্টিগ্রেড সেলসিয়াস এর ও বেশি। উদাহরণ দিলে আপনারা সহজেই বুঝতে পারবেন যে আমাদের সারাবিশ্ব আলো দেয় বা উত্তপ্ত হয় সূর্যের আলোতে আর এই সূর্যের অভ্যন্তরে তাপমাত্রা হলো 6000 সেন্টিগ্রেড এর মত। আর হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করার জন্য অর্থাৎ ফিউশন বিক্রিয়া ঘটানোর জন্য তাপমাত্রা প্রয়োজন হয় 10 লক্ষ সেন্টিগ্রেট যা সহজেই পরীক্ষাগারে চট করে এই তাপমাত্রা উৎপন্ন করা সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। আমরা সবাই জানি, যত কঠিন হবে তার কাজ ও তথ্য বেশি হবে, যার গতি যত বেশি তার এক্সিডেন্ট ততো মারাত্মক হয়ে থাকে অর্থাৎ কঠিন জিনিসই তো বেশি কাজের হয়। তবে একটি বিষয় আমাদের জানা প্রয়োজন যে ‘ফিশন’ ছাড়া ‘ফিউশন’ হতে পারে না। আমরা আরো জেনে রাখি যে, ‘নিউক্লিয়ার ফিউশন’প্রক্রিয়ায় হাইড্রোজেন বোমা বানানোর জন্য যে বিপুল পরিমাণ তাপমাত্রার প্রয়োজন, তা মুলতঃ ‘নিউক্লিয়ার ফিশন’প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরমাণু বোমা বানিয়েই জোগাড় করতে হয়। তাছাড়া এ তাপমাত্রা আমাদের পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব না।পারমানবিক বোমা তৈরি করতে হয় অনেক বড় আকারের আর হাইড্রোজেন বোমা অনেক ছোট অর্থাৎ টেনিস বলের আকার ও হতে পারে। ছোট হাইড্রোজেন বোমার শক্তি একটা বৃহৎ পারমাণবিক বোমা চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয় আর এই ছোট্টু হাইড্রোজেন বোমা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে পরে ফেলা যায় সহজে কারণ আকার ছোট এর কারণে। হলে যেকোনো জায়গায় যেকোনো মুহূর্তে ছুড়ে মারা সম্ভব হয় অত্যান্ত সহজে। তবে সুখের সংবাদ হল আজ পর্যন্ত পৃথিবীর অনেক দেশের কাছে যদিও হাইড্রোজেন বোমা রয়েছে তবুও তারা এখন পর্যন্ত পৃথিবীর কোন দেশের উপর এটা ব্যবহার করা হয়নি।আগামী পোস্টে আমরা পারমাণবিক বোমা এবং হাইড্রোজেন বোমার ধ্বংসাত্মক দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা নিয়ে আসবো আজকে এই পর্যন্তই, আল্লাহ হাফেজ।

Comments