অসৎ উপায়ে টাকা উপার্জন এবং এর পরিণতি।

alim236
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

প্রিয় সাথী বৃন্দ, আজ কুয়াশা ঘেরা সকালের শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

অসৎ উপায়ে টাকা উপার্জন এবং এর ভয়াবহ পরিণতি।

আমরা শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত টাকার প্রয়োজন হয়। তবে সাবালক হওয়ার আগ পর্যন্ত টাকার প্রয়োজন হলেও এ টাকা আমাদের উপার্জন করতে হয় না বাবা মা এর ভরণ পোষণ করে থাকেন অর্থাৎ এই টাকার যোগান দিয়ে থাকেন। এরপরে নিজের টাকায় সারা জীবন ব্যবহার করা সম্ভব হয় অনেকেরই যারা চাকরিজীবী চাকরি করেন তারা নিজের থাকায় ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়া আরো কিছু ব্যক্তি আছে যারা নিজে টাকা থাকে না বৃদ্ধ বয়সে তখন ছেলে মেয়ের থেকে টাকা নিতে হয় অর্থাৎ ছেলে মেয়ের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। এটা আসলে বাস্তব সত্য কথা।

এই টাকা যখন আমরা উপার্জন করি তখন দুই উপায় উপার্জন করা সম্ভব হয়। একটা হল সঠিক সৎ উপায়। অপরটি হল বেঠিক অসদ উপায়। সৎ উপায়ে টাকা, অর্জিত টাকা কে আমরা সাদা টাকা বলি আর অসৎ উপায়ে টাকা, অর্জিত টাকা কে আমরা কালো টাকা বলি।
অসৎ পথে উপার্জিত টাকা সেই টাকা ব্যবহার করা অর্থাৎ সেই টাকা দিয়ে জীবন যাপন করা এবং সেই টাকা ব্যবহারের আত্মতৃপ্তি স্বাচ্ছন্দ্যতা এবং অসদ টাকার পরিণতি সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো ইনশাআল্লাহ আপনারা আমার সাথে থাকুন। পুরো পোস্টে একটু পড়ুন।

অসদ টাকার উৎসসমূহ নিয়ে কিছু কথা বলি। যেটা খা বৈধ ভয়ে উপার্জন করা যায় না অর্থাৎ সামাজিকভাবে ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ পন্থা অবলম্বন করে যে টাকা উপার্জিত হয় তাকে অসৎ উপায়ে অর্জিত টাকা বলা হয় তাকে কালো টাকা বলা হয়। অসৎ রূপে অর্জিত টাকা অর্থাৎ কালো টাকা আজ আমাদের পরিবার ব্যক্তিগত সামাজিক রাষ্ট্রীয় বহিবেশে একবারে জালের মত বিস্তার করে আছে। আমরা ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করি। আমরা আমাদের চারপাশে যদি তাকাই তাহলে দেখা যায় বিভিন্ন পেশার বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন রকমের মানুষ আমাদের পরিবারের সমাজে বার বসবাস করে। যেমন প্রথমে বলি রাজনীতিবিদদের। বা নেতা, পাতি নেতাদের কথা। তারা রাজনীতি করে অর্থাৎ দল করে শুধু নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য অর্থ উপার্জন করার জন্য। অধিকাংশ রাজনীতিবিদ তারা অর্থ উপার্জনের করার মাধ্যম হিসেবে রাজনীতিকে তারা পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে থাকে। আর এই পেশায় এসে তারা প্রচুর পরিমাণে কালো টাকার মালিক হয়ে যায়। যেমন কেউ যদি মেম্বার হয়। তার কাছে অর্থের উৎস হিসেবে কিছু রিলিফ এবং কিছু প্রজেক্ট এসে থাকে এরপরও বয়স্ক ভাতা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ইত্যাদি ভাতা সরকার দিয়ে থাকে। অথচ এই মেম্বার গুলো তারা গরিবের রিলিফ গরিবকে না দিয়ে তারা আত্মসাৎ করে থাকে। বয়স্ক ভাতা কার্ড করে দেওয়ার জন্য তারা প্রতিটি বয়স্ক মানুষ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করে থাকে। এরপর তার আন্ডারে যে প্রজেক্টগুলো আসে সেই প্রজেক্টের এক পারসেন্ট কাজ না করেও সেই টাকা উত্তোলন করে তারা ব্যবহার করছে। সে ব্যাপারে কোন প্রকার জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে মেম্বার কালো টাকা উপার্জন করল।

এরপর চেয়ারম্যানের ওই একই কথা একই ভাবে সে টাকাগুলো উপার্জন করে থাকে। এরপর যদি আমরা আসি শিক্ষকদের কাছে তাহলে আমরা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দু চারটি উদাহরণ আমরা পেশ করব ইনশাল্লাহ। আমার দেখা এক শিক্ষক নাম নাহি বললাম তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের থেকে টাকা আদায় করে থাকে বিনিময়ে তাদেরকে পরীক্ষার হলে নকল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে।তারা পরীক্ষার যদি ডিউটি পড়ে তাহলে ওই ছাত্র-ছাত্রী নির্দ্বিধায় বই দেখে লেখে অথচ সে কিছুই বলে না অর্থাৎ টাকা নিয়েছে অর্থাৎ টাকার কাছে তার শিক্ষকতার পেশা বিকিয়ে দিয়েছে। তার আদর্শ তার নৈতিকতা তার শিক্ষকতার মহান পেশার নিয়ম নীতি টাকার কাছে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়াও যারা প্রতিষ্ঠান প্রধান রয়েছেন তারা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন টাকা বিভিন্নভাবে অন্যায় ভাবে গ্রাস করে এগুলো কালো টাকা।

আমরা যদি সরকারি চাকরিজীবী কথা বলি যেমন ভূমি অফিস, প্রাইমারি শিক্ষকদের অফিস, পাসপোর্ট অফিস, ডিসি অফিস এসারা পুলিশ বাহিনী এরা যে কি পরিমান টাকা মানুষের থেকে আদায় করে নেয় অর্থাৎ ঘুষ হিসেবে নিয়ে থাকে অথবা জবরদস্তি করে নিয়ে থেকে তা বলাই বাহুল্য এরা সবাই কালো টাকা উপার্জিত করছে। এরপর মন্ত্রী মিনিস্টারের কাছে যাওয়া যাক মন্ত্রী মিনিস্টাররা কত হাজার হাজার কোটি টাকা তারা অন্যায় ভাবে উপার্জন করছে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সম্পদ তারা অন্যায় ভাবে গ্রাস করছে এবং সেই টাকা আবার বিদেশে পাচার করছে এগুলো সবই হলো কালো টাকা।
এরপরও আমাদের পরিবারে ব্যক্তিগত সমাজে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক ব্যক্তি অনেক প্রতিষ্ঠান সুদের সাথে সরাসরি জড়িত। অনেকে প্রকাশ শিশুদের ব্যবসা করছে ব্যাঙগুলো সুদের ব্যবসা করছে প্রকাশ্যে এরকম অনেক মানুষ রয়েছে যারা এই সুদের ব্যবসা সাথে সরাসরি নিজেকে সম্পৃক্ত করে রেখেছে। এতে যে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে সেই সম্পদ অর্থাৎ অর্জিত সম্পদ হলো কালো টাকা অর্থাৎ হারাম টাকা। এই টাকা গুলো হালাল উপায় উপার্জিত হয় না হারাম উপায় উপার্জিত হয় বিধায় হারাম টাকা। এ ছাড়া আমাদের সমাজে অন্য সম্পদ যবর দখল করে ভোগ করা যেন প্রতিদিনের কর্ম হয়ে পড়েছে। অনেকে অনেক জমি দখল করে ভোগদখল করিতেছে। অন্যের সম্পাদ হরণ করে নিচ্ছে।

এছাড়া দেশে চুরি ডাকাতি রাহাজানি ব্যাঙ্গালোর ছিনতাই ইত্যাদির মাধ্যমে অনেক ব্যক্তি টাকা উপার্জন করে থাকে যা একেবারে হারাম উপায়ে টাকা অর্জিত হয় যা হারাম টাকা অর্থাৎ কালো টাকা বলে গণ্য হয়।

এইবার আমরা হারাম টাকা বা অসৎ উপরে টাকা বা কালো টাকা প্রাপ্তির অনুভূতি সম্পর্কে কিছু কথা আলোচনা করব। কথায় আছে না হারামের আরাম নেই। অর্থাৎ হারাম উপায়ে অসৎ রূপে অর্জিত টাকা ব্যবহারের কোন তৃপ্তি থাকে না। কোন প্রকার স্বস্তি থাকে না। সর্ব সময় একটা ভয় তার ভিতর কাজ করে অস্বস্তি তার ভিতর কাজ করে চিন্তা তার ভিতরে কাজ করে যদিও সে টাকা উপার্জন করেছে অসৎ রূপে তারপরে তার মন মনে ভালো লাগেনা সব সময় তার একটা অশান্তিতে ভুগতে থাকে।। হারাম টাকা উপার্জনের মধ্যে কখনই আরাম থাকে না আরাম মতে সেটা ব্যবহার করা হয় না করা যায় না। আর এই হারাম টাকা ব্যবহারে তার মনে মলিনতা চলে আসে।

হারাম টাকা বা অসৎ রূপে টাকা উপার্জনের পরিণতি সম্পর্কে কিছু কথা বলব। আমরা যদি ধর্মীয় দৃষ্টিতে বিষয়টি দেখি তাহলে বিষয়টা একেবারেই জটিল বিষয় হয়ে পড়ে। কারণ একজন সৎ ব্যক্তি কখনো অস ৎ কাজ করতে পারেনা অসহায় পেয়ে টাকা উপার্জন করতে পারে না। কেউ যদি অসৎ উপরে টাকা উপার্জন করে তবে সেই টাকা দিয়ে যাই করুক না কেন সেই কাজও অসৎ হয়ে যায়। যেমন কেউ যদি একটা বস্তু হালাল টাকা দিয়ে কেনার সময় যদি ওর সাথে কোন হারাম টাকা মেশে সেটা হোক এক টাকা হোক তার চেয়েও কম তারপর সেই জিনিসটা ব্যবহারে কোন প্রকার ইবাদতের সব পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ যদি নামাজ পড়ি তাহলে পুরো নামাজটাই নাকি বিহীন হবে অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা কোন প্রকার নেকি দিবেন না।

এই হারামটা খো উপার্জন করে সন্তানাদি মানুষ করলেও সেই সন্তান হারাম রক্ত গড়ে ওঠে। আমি হারাম টাকা উপার্জন করলাম আর আমার পরিবারের সকল সদস্য সেই টাকা ভোগ করবে তারা তো এই টাকার দায়ী নেবে না সব দায় এসে আমার উপর পড়বে আমি আল্লাহ সামনে দাঁড়াইতে হবে আমাকে হিসাব দিতে হবে। অর্থাৎ কাল হাশরের ময়দানে মহান আল্লাহতালা আমাদের টাকা পয়সার হিসাব নিবেন যে তোমরা অর্থ কিভাবে উপার্জন করেছিলে আর কোথায় কিভাবে খরচ করেছে সেদিন যদি আমি অসৎ রূপে টাকা উপার্জন করে থাকি তাহলে আমার আর কোন উত্তর থাকবে না আমার আর কোন অ্যানসার থাকবে না আমাকে সরাসরি সেই টাকার হিসাব দিতে হবে এবং অধমুখ করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। হাজরা হালাল উপায়ে উপার্জিত টাকা হয়ে থাকে আমার তাহলে আল্লাহর সামনে আমি সঠিক হিসাব দিতে পারব আমি আল্লাহ সন্তুষ্ট অর্জন করতে এবং আমাকে মহান আল্লাহতালা শান্তি সুখে জিন্দেগী জান্নাত দান করবেন।


আসুন আমরা সবাই হারাম উপায়ে টাকা উপার্জনের ক্ষেত্রে বিরত থাকি এবং হালাল উপায়ে টাকা উপার্জন করার চেষ্টা করি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করি এবং জান্নাত লাভের অধিকারী হই। আজকের মত এখানেই শেষ করছি আল্লাহ হাফেজ।

Comments