বালাকোট জান্নাত

A
arif567
বালাকোটই লাহোর বালাকোটই জান্নাত ঃ মোল্লা লাল মোহাম্মদকে মাটিকোটের সেই পাহাড়ী সরু পথটির পাহারায় নিয়োগ করা হয়েছিল। পরে তাকে পরিবর্তন করে মির্জা আহমদ বেগকে সেখানে মুতায়েন করা হয়। শের সিংহের বাহিনী কুনহার নদীর পূর্ব-দক্ষিণ দিকে বালাকোট থেকে দুই-আড়াই ক্রোশ দূরে অবস্থান নিয়েছিল। সাইয়্যিদ সাহেব কুনহার নদীর উপর দিয়ে দক্ষিণ পূর্বদিকের এলাকায় গমনের জন্য গাছ দিয়ে একটি পুল তৈরি করিয়ে ছিলেন। শিখরাও পশ্চিমে আসার জন্য একটি পুল নির্মাণ করেছিল। কাঠের পুল নির্মাণের দুই একদিন পরই গুপ্তচর এসে সংবাদ দিল যে, শিখ বাহিনী নদী পার হয়ে এদিকে না এসে অন্যদিকে যেন চলে যাচ্ছে । কিন্তু তার পর দিন যোহরের পরই মাটিকোট পাহাড়ের উপর গুলির আওয়াজ শোনা গেল। গোয়ালাদের লোকজন চিৎকার করে বলতে লাগল যে, শিখ বাহিনী এসে গেছে। সাইয়্যিদ সাহেব সে দিকে কিছু সৈন্য আহমদ বেগের সহযোগিতার জন্য পাঠালেন এবং বলে দিলেন যে, সেই পাহাড়ে তাদেরকে বাধা না দিয়ে আহমদ বেগ যেন তাঁর বাহিনী নিয়ে নিচে নেমে আসে। দিনের মাত্র দেড় ঘণ্টা বাকী, এ সময় সুলতান নযফ খানের কাছে থেকে একটি চিঠি আসে। চিঠিতে সে সাইয়্যিদ সাহেবকে যে পরামর্শ দেয় তা নিয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ বলেন, এটি ষড়যন্ত্রমূলক; আর কেউ বলেন, পরামর্শ যথার্থ ওস্বার্থহীন। সুতরাং তার পরামর্শ অনুসারে শিখদের তোপখানা আক্রমণ কর হউক। এসব শুনে তিনি বললেন, এখন কাফিরদের উপর অতর্কিত আক্রমণ করা আমার ইচ্ছা নয়। আমি এই বালাকোটের পাদদেশেই তাদের সাথে লড়তে চাই। এই ময়দানই লাহোর এই ময়দানই জান্নাত। মনে রেখো জান্নাত এত মূল্যবান সামগ্রী দ্বারা সুসজ্জিত যে, সমগ্র দুনিয়ার রাজত্বও তার সামনে তুচ্ছ। সুতরাং তিনি সকল স্থান থেকে পাহারারত মুজাহিদদেরকে তলব করে তার কাছে নিয়ে আসলেন এবং তাঁদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আজ রাতে সকলেই পরিপূর্ণ ইখলাছের সাথে আল্লাহর দরবারে তাওবা ইস্তিগফার করে নিজের গুনাহ খাতার জন্য একাগ্রচিত্তে তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। এই রাতটুকুই তো সময় আছে। কাল ভোরে তো কাফিরদের সঙ্গে আমাদের মুকাবিলাই হবে। আমাদের মাঝে কে জীবিত থাকবে, কে শাহাদত বরণ করবে তা আল্লাহই ভাল জানেন। মুকাবেলার সকল সম্ভাব্য ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়। ফজরের নামাযের পর সবাইকে প্রস্তুত হতে বলে তিনি নিজের আস্তানায় চলে যান। কিছুক্ষণ পর অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেরিয়ে আসেন এবং মসজিদের দিকে রওয়ানা হন। এ সময় শিখ বাহিনী মাটিকোটের দিক দিয়ে নিচে অবতরণ করছিল। লোকেরা সেদিকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ওদেরকে অবতরণ করতে দাও। শিখ বাহিনী কামান থেকে গোলাবর্ষণ শুরু করে। এ সময় অন্য এক জগতের আকর্ষণে তিনি যেন উদাস হয়ে উঠেন। তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে বিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, যা যেখানে যেভাবে আছে সেখানে সেভাবেই থাকতে দাও । এক সময় তিনি মুজাহিদদের থেকে সরে গিয়ে মসজিদের দরজা জানালা বন্ধ করে দু'আ করতে শুরু করেন। কিন্তু কতক্ষণ পর পর দরজা খুলে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাস করছিলেন, কে আমাকে ডাকল, অথচ কেউ তাকে ডাকেনি। তিনবার এরূপ জিজ্ঞাসা করার পর তিনি মসজিদ থেকে বের হয়ে দ্রুত ময়দানের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেন। তখন বৃষ্টির মত গোলাগুলি চলছে। তিনি ডালুতে অবস্থিত অন্য একটি মসজিদে প্রবেশ করে বন্দুক ও কুরাবিনদারী সৈনিকদেরকে একত্রিত করে তাঁর আগে আগে চলতে বলে তিনি ব্যাঘ্রের ন্যায় ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আর তখনই উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

Comments