শহরের জীবন

A
arif567

আসসালামুয়ালাইকুম কেমন আছেন সবাই। আশা করি সবাই ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আমিও আল্লাহর রহমতে ভালো আছি। আজকে আমি শহরের জীবন সম্পর্কে কিছু বলবো।সাধারণত শহর বলতে আমরা বুঝি আধুনিক সভ্যতার সকল উপকরণ সমৃদ্ধ লোকালয়কে। যেখানে শিল্প কারখানা থেকে শুরু করে সব ধরণের নাগরিক ব্যবস্থাপনা রয়েছে। শহরের জীবন যাত্রার মান গ্রামীণ জনপদ থেকে অনেক উন্নত। শহর মানেই উচুঁ দালান-কোঠা, পাকা রাস্তা, যানবাহন আর জীবিকার সন্ধানে ছুটে চলা ব্যস্ত মানুষ।অবিরাম ছুটে চলা, সময়ের ব্যস্ত চাকায় জীবনকে পিষে ফেলাই শহুরে জীবনের স্বরূপ। আপন ভূবন গড়ে তোলাকে নিয়েই দিনরাত ব্যস্ত শহরের মানুষ। মানবিক সম্পর্কগুলো শহরের মানচিত্রে জটিল এক সমীকরণ। জীবনের ব্যস্ত গোলক ধাঁধাঁয় পাক খায় মানুষের আবেগ। আর তাই কাউকে দেখা যায় বিলাসী জীবনের ছন্দে আটকে আছে আর কেউবা অযত্নে অবহেলায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। শহর যাকে দেয় দু হাত ভরে দেয় আর যাকে দেয় না সে পড়ে থাকে পথের পাশে। শহর যেন অসমতার এক নীরব তটরেখা। এখানে একই আকাশের নিচে কেউ গরীব, কেউ ধনী, কেউ রাজপ্রাসাদে বাস করে আর কেউ ফুটপাতে। রঙিন বিজলী বাতি আর পাকা বাড়ি শহুরে জীবনকে নান্দনিক করে দিলেও কেড়ে নিয়েছে মানুষের আবেগ। শহরের চারদেয়ালে মানুষের জীবন তাই হয়ে গেছে রংহীন আলপনা। ব্যস্ত শহরের দূষিত বাতাসে আটকে পড়া মন তাই ছুটে যেতে চায় দিগন্তের কাছে। সবুজ গ্রামের উপর নীল আকাশ যেখানে ছাদ হয়ে ঝুলে আছে।প্রকৃতি মানেই গ্রাম, যেখানে অবারিত মাঠে খোলা হাওয়া দোল খায় পাকা ধানের শীষে। গ্রামীণ জনপদ পেরিয়ে শহরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ালেই মনে হয় প্রকৃতি যেন পিছনে হাটছে। শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় বাতাস থমকে যায়। সবুজ মাঠ, অবারিত ফসলের ক্ষেত আর বহতা নদীর বড় অভাব ইট, কাঠের শহরে। ছয় ঋতুর বাংলাদেশ যেন শহরে এসে অর্ধেক হয়ে গেছে। ঋতু বৈচিত্র্য শহরে নেই বললেই চলে। এখানে ঋতুর পালা বদল মানেই বোশেখের তপ্ত রোদে দগ্ধ হওয়া, কিংবা নাগরিক কোলাহল ছাপিয়ে এক পশলা বৃষ্টির শব্দ। শহরে শীত আসে চুপিসারে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আবার বিদায়ও নেয়। দালানকোঠার আড়ালে হারিয়ে যায় শরতের কাশফুল। হেমন্তের নবান্ন উৎসব এখানে বড্ড বেমানান। ফসলের মাঠ যেখানে নেই সেখানে নবান্ন আসবেই বা কি করে। এই ছুটে চলা যান্ত্রিক জীবনে বাংলার প্রকৃতি, ছয় ঋতুর পালাবদল কোনো কিছুই চোখে পড়ে না। সবার অলক্ষ্যে নগরের কোনো ছোট্ট উদ্যানে ফুটে থাকে বর্ষার কদম ফুল। শহুরে জীবনে প্রকৃতি মানেই সূর্যের উদয়-অস্ত। ব্যস্ত জীবনে এক পশলা বৃষ্টিই সবাইকে প্রকৃতির ছোঁয়া এনে দেয়। শহুরে জীবনে প্রকৃতির উপস্থিতি তাই একদমই টের পাওয়া যায় না।জীবিকার জন্য যেখানে ছুটে বেড়াতে হয় দিন-রাত সেখানে অবকাশ মানে বিলাসিতা। সারা সপ্তাহ কর্মব্যস্ত থাকার পর একদিনের ছুটি জীবনকে যেন উপহাস করে যায়। শহরের বেশিরভাগ মানুষ তাই ছুটির দিনে বিশ্রাম নিতেই বেশি পছন্দ করে। জীবন যেখানে আবদারের ঝুড়ি মেলে রাখে সেখানে ছোট্ট অবসরটুকুও নানা ব্যস্ততায় কেটে যায়। ছুটির দিনে তাই কেউ কেউ ভীর জমায় শপিং মলে। দৈনন্দিন জীবনের টুকিটাকি প্রয়োজন মেটাতে ছুটতে হয় শপিংয়ে। কেউবা পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে যান চিড়িয়াখানা, জাদুঘর, শিশুপার্ক কিংবা উদ্যানে। সৌখিন খাবারপ্রিয় মানুষ ভিড় জমান পছন্দের রেস্তোরায়।ছুটির দিনে তারুণ্যের আড্ডায় মুখরিত হয় টি,এস,সি, ব্যস্ত শহরে সন্ধ্যা নেমে আসে। স্বল্প পরিসরের অবকাশ শেষে আবার গন্তব্যে ফিরে যায় মানুষ। শুরু হয় কর্মমুখর, ব্যস্ত শহুরে জীবন।শহরে উন্নত জীবন যাপনের জন্য সব ধরণের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। শিক্ষার জন্য রয়েছে নামি দামি সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়। চিকিৎসার জন্য শহরে রয়েছে অগণিত হাসপাতাল, ক্লিনিক যা মানুষকে সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকে। প্রচীনকাল থেকেই ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত শহর। গ্রাম থেকে বহু মানুষ এখনো শহরে আসে জীবিকার সন্ধানে। কর্মব্যস্ততার কারণে মানুষ এখানে ছোট ছোট কাজের জন্য অপরের শরণাপন্ন হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। অফিস, আদালত, কলকারখানাগুলো শহরে অবস্থিত হওয়াতে চাকুরির অন্যতম স্থান হিসেবেও বিবেচিত হয় শহর। গ্রামীণ কৃষির বাজার বলা হয় শহরকে। গ্রাম থেকে কৃষকরা ভালো দামের আশায় তাদের পণ্য নিয়ে আসেন শহরে। শহরে রয়েছে বিদ্যুৎ, যা সভ্যতাকে আলোকিত করেছে। দ্রুত যাতায়াতের জন্য রয়েছে মোটরযান, রেলগাড়ি এবং উড়োজাহাজ। পাকা দালানকোঠা, রাস্তাঘাট এবং রঙ-বেরঙের বিজলী বাতি শহুরে জীবনকে করেছে দৃষ্টিনন্দন। শহরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এখানে হাতের নাগালেই সব কিছু পাওয়া যায়।নান্দনিক স্থাপত্য, আকাশচুম্বী সব অট্টালিকা শহরকে একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে অপরদিকে করে তুলেছে বিষাদময়। শহরের কলকারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসকে করে দিচ্ছে নিশ্বাসের অনুপযোগী, এর বর্জ্য নদীর পানিকে নষ্ট করছে ক্রমান্বয়ে। জনসংখ্যার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহন। ক্রমবর্ধমান গাড়ির কারণে বেড়ে চলছে যানজট আর শব্দদূষণের মাত্রা। সেই সাথে বাড়ছে দুর্ঘটনা এবং দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার। অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থার কারণে ঘণ্টাব্যাপী আটকে থাকতে হয় রাস্তায়। নিরাপত্তাহীনতা শহুরে জীবনের আরেক বিরূপ দিক। অনবরত ছিনতাই, ডাকাতি এবং খুনের ঘটনা জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলে। মাঝে মাঝে লোডশেডিংয়ে শহরের চিত্র বদলে যায়। ঘুটঘুটে অন্ধকারকে তখন মনে হয় বিভীষিকাময় রাত। কর্মব্যস্ততার আড়ালে মানুষের সাথে সম্পর্কগুলো কেমন যেন ঠুনকো মনে হয়। অনেক সুবিধার পাশাপাশি অসুবিধা শহুরে জীবনকে যেন বিষিয়ে তুলে। এইসব নেতিবাচক দিকের প্রভাবে শহুরে মানুষের মনের আবেগ, ভালোবাসা, আন্তরিকতা ক্রমেই অনুভূতিহীন হয়ে পড়ছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ভালো করে চলার তৌফিক দান করুন আমীন

Comments

sereybd

অভিনন্দন! আপনার পোস্টটি সেরিবাংলাদেশের কমিউনিটি আইডি থেকে কিউরেশন করা হয়েছে। আপনি সেরি বাংলাদেশ ডিসকর্ড সার্ভারে get_upvote_serey চ্যানেলে আপনার পোস্ট লিঙ্ক জমা দিয়ে প্রতি 24 ঘন্টার মধ্যে একবার আমাদের কমিউনিটি  থেকে ভোটের অনুরোধ করতে পারবেন, ধন্যবাদ।

Join sereyBangladesh Discord server:- Join Discord (https://discord.gg/YKPqUku8)
Join sereyBangladesh Telegram :- Join Telegram (https://t.me/SereyBangladesh)