আমার প্রথম মাদ্রাসায় ভর্তি

A
arif567

আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু সবাই কেমন আছেন আশা করি সকলে ভালো আছেন আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর রহমতে আমিও ভাল আছি আজকে আমি আপনাদের মাঝে আমি যখন প্রথম মাদ্রাসায় ভর্তি হয় এবং আমি হিফজখানাঢ় আমার প্রথম দুই বছর কিভাবে কেটে ছিল তা সম্পর্কে কিছু কথাবার্তা বলব

আমি যখন পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে আমি আমার নানার বাড়ীর একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় আমার মা-বাবার অনেক ইচ্ছা ছিল আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর আমাকে আলেম বানানোর অনেক ইচ্ছা ছিল আমার নানার অনেক ইচ্ছা ছিল যে আমাকে মাদ্রাসায় পড়ানো তাই আমাকে যখন আমি পঞ্চম শ্রেণি শেষ করি তখন মামার বাড়ির সবাই বলল আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিতে আমার অনেক খুশি লাগতেছিল আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হবে কারণ আমি ছোটকাল থেকেই শুনে আসছি আমাকে মাদ্রাসায় পড়াবেন এইজন্য যখন তারা বলছিল এখন আমাকে মাদ্রাসায় ভর্তি করবে তখন আমার অনেক খুশি লাগতেছিল তারপর যখন আমি পঞ্চম শ্রেণীর শেষ করলাম ওই সময় বছরের মাঝখানে ছিল এজন্য ভর্তি হতে একটু সমস্যা হইতেছিল কারণ মাদ্রাসায় ভর্তি হওয়ার একটা নাম থাকে তারপরেও যেহেতু আমাদের মামার এলাকার মাদ্রাসা মসজিদ এইজন্য আমার ভর্তি হতে কোন প্রকার সমস্যা হয়নাই আমার মেজো মামা তিনি আমাকে একদিন মাগরিবের পরে বললেন তোমাকে আজকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিব আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম তারপর আম্মু ঐদিন আমার নানার বাড়িতে গিয়েছিল এজন্য আরো খুশি লাগতেছিল তারপর আমার মামা আমাকে মাদ্রাসায় নেয়া যায় তারপর হুজুরের সাথে আমাকে কথা বার্তা বলে দেয় মামা বললেন হুজুর কে সালাম দিতে আমি হুজুরকে সালাম দিলাম আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওবারাকাতু হুজুর আমার সালামের উত্তর নিলেননা সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতু কেমন আছো তুমি আমি বললাম ভালো আছি তারপর আমি হুজুরকে জিজ্ঞেস করি আপনি কেমন আছেন হুজুর আমাকে বলল আলহামদুলিল্লাহ আমি ভালো আছি তখন আমি জানতাম না কোনো কথাবার্তার যখন শুকরিয়া শুকরিয়া কথাবার্তা হয় তখন আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয় কোন সময়ে সুবহানাল্লাহ বলতে হয় কোন সময় আল্লাহু আকবার বলতে হয় আমি এই বিষয়ে জানতাম না যখন আমি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি তখন আমি জানতে পারি কোন সময় আলহামদুলিল্লাহ বলতে হয় কোন সময় সুবহানাল্লাহ বলতে হয় কোন সময় আল্লাহু আকবার বলতে হয় তারপর আমাকে মামা ভর্তি করিয়ে দিয়ে চলে আসেন ওই সময় আমার মাদ্রাসার ভর্তি ছিল মাত্র আটশত টাকা এবং আমি আমার মামার বাড়ি থেকে খেয়ে যেতাম এজন্য আমার মাসিক বেতন ছিল মাত্র দুইশত টাকা তারপর আমি এইভাবে মাদ্রাসায় যেতে থাকি মাদ্রাসার যেদিন প্রথম দিন ভর্তি হয় ওইদিন আমার অনেক খারাপ লাগতে ছিল আবার আনন্দ লাগতেছিল সর্বপ্রথম আমি আমার কোন প্রিয় জন ছাড়া আমি মাদ্রাসায় থাকবো তারপর আমার মামা আমাকে মাদ্রাসায় রেখে চলে আসেন আমাকে হুজুর একটি জায়গায় বসে পড়তে বলেন তখন আমার কাছে কোন কিতাব ছিলনা কায়দা ছিল না হুজুর আমাকে একটি কায়দা দিলেন এবং একটি রেহাল দিলেন বললেন তুমি এখানে বসে পড়তে থাকো তারপর ঐ মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে আস্তে আস্তে পরিচিত হতে লাগলাম একজন বড় ভাইয়ের কাছ থেকে আমি পড়া শুনে নিলাম তারপর সে আমাকে পড়া বলে দিল আমাকে বলল এটা শিখতে আমি একটি একটি করে অক্ষর শিখতে লাগলাম তারপর যখন এশারের নামাজের সময় হয় তখন নামাজ পড়ে সবাই বাড়িতে খেতে চলে গেলেন আমিও আমার মামা বাড়িতে চলে আসলাম খানা খেয়ে আমার মামা বললেন তোমাকে মাদ্রাসায় থাকতে হবে তুমি বেডিং নিয়ে মাদ্রাসায় যাও আমি ব্যাটিং নিয়ে মাদ্রাসায় চলে গেলাম যখন রাত্রি এগারোটা বাজে তখন সবাইকে ঘুমানোর জন্য ছুটে দিলেন আমিও ছাত্র দের সাথে ঘুমাতে গেলাম হুজুর বললেন তুমি এই জায়গায় সব হুজুরের একটি জায়গায় আমাকে শুতে বললেন অর্থাৎ হুজুরের পাশেই আমার সিটের জায়গা করে দিলেন আমি সেই জায়গায় সেট করে শুয়ে পড়লাম এই সর্বপ্রথম আমি অনেক রাত্রে ঘুমাই ছিলাম কারন আমি আমার মামার বাড়ি থাকাকালীন রাত্র দশটার আগেই এশার নামাজের পরে খানা খেয়ে ঘুমিয়ে যেতাম কিন্তু মাদ্রাসায় এগারোটার সময় আমি ঘুমাই ছিলাম এজন্য আমার অনেক ঘুম পাইছে ছিলো আমি সব মাত্রই আমি ঘুমিয়ে পড়ি যখন ফজরের নামাজের একঘন্টা আগে হুজুর সকল ছাত্রদেরকে ঢেকে দিলেন অজু করে ইস্তিঞ্জাসবাই ক্লাসে বসে গেলেন আমিও ক্লাসে বসে গেলাম ফজর নামাজের আগে যে ক্লাসটি হয় ওই টাইমে আমার অনেক ঘুম পাচ্ছিল আমি বসে বসে জড়াইতে ছিলাম হুজুর আমাকে বললেন এই টাইমে ঘুমানোর সময় নয় এই টাইমে পড়া মুখস্ত সময় হুজুর বলার পরে আমি পড়া শুরু করলাম এবং মুখস্থ করতে লাগলাম ফজরের নামাজ পড়ে আমি হুজুরকে আমার পড়াশোনা লাম হুজুর অনেক খুশি হলেন এবং বললেন এই ভাবেই পড়তে থাকবে কোন কিছু না বুঝতে পারলে আমাকে বলবে আমি তোমাকে বুঝিয়ে দিব এইভাবে আমি পড়তে থাকি আমার নানার বাড়ি এলাকায় আমি দুই মাস কায়দা পড়ার পর আমাকে হুজুর আমপারা দেয় এবং আমি আমপারা দুই মাস পড়ার পর পুনরায় আমাকে কোরআন শরীফ মুখস্ত করার জন্য বলা হয় আমি যেদিন কোরআন শরীফ মুখস্ত করা শুরু করলাম ঐদিন আমাকে মামা 5 কেজি মিষ্টি কিনে দিলেন ছাত্রদেরকে খাওয়ানোর জন্য আমি মিষ্টি নিয়ে গেলাম হুজুর সকল ছাত্রদেরকে মিষ্টি দিলেন খাওয়ানোর জন্য সবাইকে এক পিস করে মিষ্টি দিলেন সবাই মিষ্টি খেলো এবং আমার জন্য দোয়া করলো তারপর আমি একটু একটু করে কোরআন শরীফ মুখস্ত করতে লাগলাম প্রথমদিকে আমি কুরআন শরীফের 5 আয়াত করে সবক দিতাম তারপর একটু একটু করে বাড়াতে বাড়াতে আমি এক পৃষ্ঠা কোরআন শরীফ মুখস্ত শুনতে লাগলাম এইভাবে আমার প্রথম বছরে আমি 8 পারা কোরআন শরীফ মুখস্ত করে ফেলি তারপর দ্বিতীয় বছরে আমি আরো বেশি মুখস্ত করি আমি আমার নানার বাড়িতে দুই বছর যাবত কোরআন শরীফ পড়ি তারপর আমি অন্য মাদ্রাসায় চলে যাই আজকে এই পর্যন্তই তারপরে অন্য পড়বে বাকিটুকু বলা হবে সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন সবার সুস্বাস্থ্য কামনা করে আজকে আমি এখানেই শেষ করছি আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু

Comments