বাঙালি মানেই ভোজন রসিক। বাঙালি মানেই বুকের নিচে অনেক বর সাইজের ছোট বড় পাহাড় (ভূরি)। এই বাঙালিনামাতে বাঙালির প্রধান বৈশিষ্ট্য বলা যেতে তাদের কর্মবিমুখতা, অলসতা এবং ভোজন রসিকতা। বাঙালিরা অনেক গল্প প্রিয়। তার সাথে যদি কোনো শুকনা খাবার যুক্ত হয় তাহলে তো কোনো কথায় নেই।
আমার পাড়ায় দুপুর থেকে একটি কালো রঙের ছাগল ঘুরে বেড়াতে যায়। ছাগলটা সন্ধা পর্যন্ত আমাদের পাড়াতেই থাকে। রাত আটটা পর্যন্ত ছাগলটি কার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে ছাগলটি আমার এক চাচার বাড়ি রেখে দেওয়া হয়। সকাল বেলায় ছাগল নিখোঁজের একটি মাইকিং শুনে আমার ওই চাচা ছাগলের মালিককে গিয়ে বলে আসলে ছাগলের মালিক কিছুক্ষণ পরেই ছাগলটি নিতে আসে। কিন্তু আমার চাচিরা আর ফুফুরা মজা করে ছাগল দিতে অস্বীকার করে এই বলে যে তাদের কিছু খাওয়াতে হবে। ছাগলের মালিক কিছু না ভেবেই পকেট থেকে বাংলাদেশি একশত টাকা বের করে একটি ছেলের হাতে দিয়ে দোকান থেকে মুড়ি চানাচুর কিনতে বলে। ছেলেটি কিনে এনে দিলে ওই আগন্তুক চাচাটি ছেলেটিকে আমার ফুফুর হাতে মুড়ি চানাচুরের প্যাকেটটি দিতে বলে। ছেলেটি দেরি না করে আমার ফুফুর হাতে দেয়।
আগন্তুক চাচাটি বলেন আপনারা আরও বেশি টাকা নেবেন বলে ভেবেছিলাম কিন্তু আপনারাই বাঁচায় দিলেন আমাকে। এই বলে চাচাটি ছাগল নিয়ে চলে যায় তখন বেলা আনুমানিক এগারোটা কি বারোটা বাজে। আমরা ঠিক করলাম বিকেল বেলা আমরা সবাই একসাথে মুড়ি পার্টি করবো। বিকেল বেলা সবাই নিজেদের মতো কাজ শেষ করে আমাদের প্রতিবেশি ছোট চাচাদের বাড়ির সামনে একত্রিত হয় এবং মুড়ি মাখিয়ে সমায় একসাথে বসে খাই।
এই ছিল আজকের মতো আমাদের মুড়ি পার্টি।

