আমার এক চাচার নাম হাবিব। তার দুই ছেলে। বড় ছেলেটার বয়স পঁচিশ হবে। ছোটটার আটারো হবে। আমার সেই চাচা- চাচীর একটা মেয়ের এবং ওই দুই ভায়ের একটা বোনের অনেক শখ। একটা বাচ্চার জন্যে অনেক আহাজারি করতো তারা। কিন্তু কোনো সমস্যার জন্যে ওই দম্পতির কোনো বাচ্চা হচ্ছিল না। তাই তাদের দ্বিতীয় সন্তানের আঠারো বছর বয়স হয়ে গিয়েছিলো তাও ওই চাচী কনসিভ করছিল না।
মেয়ে নেই বলে আমাদের সব বোন গুলোকে ওরা অনেক ভালোবাসে। গেলে বেশ অপ্যায়ন করে থাকার জন্যে খুব বলে কিন্তু আমাদের তেমন থাকা বা যাওয়া কোনোটাই হয়না। হঠাৎ কিছুদিন আগে শুনলাম কাকি অসুস্থ । বিভিন্ন জায়গায় ট্রিটমেন্ট নিচ্ছিল। ব্রেস্ট টিউমার হয়েছে ওই কাকির তবে প্রাথমিক অবস্থায় আছে বলে ঔষধেই ঠিক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছে ডাক্তার। কাকাও অনেক কেয়ার করছিল কাকির। এরই মধ্যে গুড নিউজ শোনা গেলো যে কাকি প্রেগন্যান্ট। সবারই আশা যেন একটা মেয়ে হয়। আল্লাহর কি রহমত আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেকা গেলো কাকির মেয়ে বাবু হবে।
মেয়ে বাবুর কথা শুনে তো সবাই অনেক খুশি যে এত বছর পর তাদের একটা মেয়ে বাবু হবে। বাচ্চা যেন সুস্থ থাকে বালো থাকে তাই সবাই অনেক দোয়া করতো। কিন্তু কাকির এবার অনেক সমস্যা শুরু হয়। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা বেড়ে কাকি বিছানা গত হয়ে যায়। সব কাজ আমার ওই কাকা এবং আটারো বছর বয়সি ওই ভাইটা করতো। নরমালে বাচ্চা ডেলিভারি সম্ভব না জানিয়ে দিয়েছেন ডাক্তার তাই সিজারের মাধ্যমেই এই জগৎ আলে করে কাকা - কাকীর কোলে তাবাচ্ছুম আসে তাবাচ্ছুম আর কেউ না আমাদের ছোট বোন।
সে এখন দের বছরের মেয়ে। হেঁটে বেড়ায়। সুযোগ পেলেই আমাদের এদিকে চলে আসে। সে কথাও শিখেছে তোতলা তোতলা মূখে আমাদের আপু বলে ডাকে। তার ডাক গুলো খুবই মিষ্টি। সবার চোখের মনি এখন তাবাচ্ছুম। আমাদের ভালোবাসার ছোট বোন তাবাচ্ছুম।

