করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খুব ভয়াবহ আকার ধারন করছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্ব প্রথম ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট ধরা পড়ে। এরপর করোনা ভাইরাসের এই নতুন ধরনটি ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। যদি করোনা ভাইরাসের এই ভ্যারিয়েন্টটি করোনা ভাইরাসের অন্যান্য সকল ভ্যারিয়েন্টের তুলনামূলক কম ভয়ঙ্কর, এটি আমাদের যথেষ্ট ক্ষতিসাধন করতে পারে।এটি খুব বেশি লিথাল না হলেও এর সংক্রমণ অনেক বেশি তাই এটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে সাড়া বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।
আমরা ইতি মধ্যে করোনা ভাইরাসের প্রথম ও দ্বিতীয় ডেউ পার করে এসেছি। আমরা এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানি। চারিদিকে লকডাউন, শাটডাউন আর মানুষের হাহাকার ছিলো নিত্যদিনের গল্প। কারো বা চাকরি চলে গেছে, কেউ বা রাস্তায় গাড়ি নেই বলে চাকরিস্থলে সময় মতো পৌঁছাতে পারছিল না, কেউ একটু খাবারের জন্যে মানুষের বাড়ি বাড়ি বেড়িয়েছিল, কেউ একটু ভালো চিকিৎসা পাওয়ার জন্যে হাসপাতাল হাসপাতাল ঘুরেছিল। চারিদিকে ছিল শুধু হাহাকার হাহাকার আর হাহাকার।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপের কারণে গত দের বছর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রেখেছিল বাংলাদেশ সরকার। আমরা যারা স্টুডেন্ট তারা জানি বাসায় সারাদিন কাটানো কতটা বিরক্তিকর। সময়কে মনে হত স্থির কোন কিছু। কোনো কিছুর প্রয়োজন পড়লে তা সময় মতো পাওয়া যেতো না। বলা চলে করোনা ভাইরাসের জন্যে হাজারো নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল আমাদের। গত বারের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার ক্ষত এখনো আমাদের মনে দগদগে ঘা এর মত বিদ্যমান। এই কৃষত না শুকোতেই আরেকটি ধাক্কা সহ্য করা আমাদের সবার জন্যই কঠিন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রক্ষা করুন।
বলা যায় করোনার ফলে এক অন্যরকম পরিস্থিতি, অন্যরকম বিশ্ব ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যা দল, মত নির্বিশেষে সবার জন্য দুর্বিষহ।

