Serey Weekly Writing Contest - 6

E
emilyben

আমার জীবনের তেমন কোনো স্মরণীয় ঘটনা নেই। যেটুকু আছে অন্যদের তুলনায় হয়তো  অনেক কম। 

 

আমি তখন কেবল পঞ্চম শ্রেণীর ফাইনাল পরিক্ষা দিয়েছি মাত্র। আমি যে স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তাম তিনি আমার বাবার কাছের একজন বন্ধু ছিলেন এবং তার স্ত্রী আমার স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। পরিক্ষা শেষে ছুটি চলছে রেজাল্ট হয়নি তখনও। আমরা বন্ধু - বান্ধবীরা প্লান করছি পিকনিক করার। ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। তাই আমরা সবাই স্যারের কাছে  গিয়ে আবদার করি বিজয় দিবস উপলক্ষে  আমরা পিকনিক করতে চাই। স্যার ম্যামের সাথে কথা বলে জানায় ঠিক আছে পিকনিক করবে এবং বিজয় দিবসের দিনেই করবে। 

 

ডেট ফিক্সড করে স্যার জানিয়ে দেই পঞ্চাশ টাকা চাঁদা এই পিকনিকের। আমরা ১৬ তারিখের আগেই চাঁদা তুলে ফেলি এবং স্যার আমাদের একটি সুখবর দেয় যে দুপুরে খেয়ে আমরা বিকেলে পদ্মা নদীতে বেড়াতে যাবো। আমরা সব বন্ধু - বান্ধবীরাই তখন অনেক ছোট আমরা ওটাতেই অনেক খুশি হয়ে যায়। আমরা মেয়েরা সবাই শাড়ি পড়ি। আর ওই দিনটা আমার জীবনে স্মরণীয় একমাত্র প্রধান কারণ হলো আমরা সবাই শাড়ি পরে প্রায় ৪ কিলোমিটার হেটেছিলাম। প্রথমত কারোরই শাড়ি পড়ার কোনো অভ্যাস নেই দ্বিতীয়ত অনেক পথ। আমার কয়েক জন বান্ধবী শাড়ি  খুলে কোলে নিয়ে হেটে চলে যাচ্ছিল তাদের শরীরে শুধু পেটিকোট আর ব্লাউজ ছিল। আমরা ছোট ছিলাম তাই আশেপাশের মানুষ তেমন কিছু মনে করেনি। 

 

শেষ পর্যন্ত আমরা হেঁটেই বাড়ি আসি। সন্ধা হয়ে অন্ধকার হয়ে যায়। কিন্তু স্মৃতির পাতা থেকে কখনোই অন্ধকার হয়ে যায়নি, মুছেও যায়নি হয়তো কখনো যাবেওনা। আমার জীবনের এমন একটি ঘটনা এমন একটি মুহূর্ত এমন একটি স্মৃতি যা আজীবন স্মরণীয়ই হয়ে থাকবে।

Comments