বাংলা ভাষা:
ভাষার দাবি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘোষণা করা হয় একপর্যায়ে। কারো বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় একুশে ফেব্রুয়ারি কর্মসূচি।
এই অবস্থায় আসলে না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কারা দিয়েছিলেন এবং তাকে ও তার একজন সঙ্গীকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠানো হয় বা স্থানান্তর করা হয়। যেখানে শেখ মুজিবর ও মহি উদ্দিন আহমেদ রাজবন্দীদের বিভিন্ন দাবি শুরু করেন এবং যার জন্য আন্দোলন বেশ তীব্র হয়ে ওঠে। এবং এবং এটার জন্য দেশে বেশ শোরগোল শুরু হয়ে যায় বেশ আলোচনা এখানে ওখানে শোনা যায়। এবং এর পরবর্তীতে যখন পশ্চিম পাকিস্তানিরা দেখতে পেয়েছিল যে বাংলার অর্থাৎ পূর্ব বাংলার ছেলেদেরকে আর দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না তখন তারা ১৪৪ ধারা জারি করে।
পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেদের কে থামিয়ে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি তাদের জন্য। এর পরবর্তীতে এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষণ করে যার ফলে বাংলার দামাল ছেলেদের মধ্য থেকে অনেকেই অকালে ঝরে পড়ে মৃত্যুর কোলে। বাংলাদেশ হারায় কিছু সোনার ছেলে।
ঢাকায় ছাত্র হত্যার খবর খুব দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে যার জন্য পূর্ব বাংলার জনগণ বিক্ষুব্ধ অবস্থায় ভেঙে পড়ে একদিকে এবং অন্যদিকে নিজেদের ভিতর সংগ্রামী মনোভাব গড়ে তোলে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে একত্রিত করে এবং এই একটাই পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য দুর্দশা বয়ে নিয়ে আসে। আর অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তান অর্থাৎ বর্তমান আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে যার জন্য আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এই স্বাধীনতার পত্রা কিছুটা হলেও এগিয়ে যায় এই ছাত্রদের আত্মত্যাগের ফলে।
আসলে ইতিহাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ প্রতিটি জাতির জীবনে। ইতিহাস না থাকলে বর্তমানটা এত সাবলীল ও সুশীল হওয়া সম্ভব ছিল না।

