মাইনিং

jakaria

মাইনিং ঃ

আমাদের এই ভূ-ভাগ খনিজ সম্পদে ভরপুর। এ খনিজ সম্পদ আবিষ্কারের নেশায় আজও মানুষ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। মানুষের অজানাকে জানার সেতুই এর অন্যতম কারণ। খনিজ সম্পদগুলো পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করছে। খনিজ পদার্থ যখন কোন স্থানে একত্রে বিপুল পরিমাণে অবস্থান করে তখন তাকে উক্ত খনিজ পদার্থের খনি বলা হয়ে থাকে। যেমনঃ চায়না ক্লের খনি, বল ক্লের খনি, ফেল্ডস্পারের খনি ইত্যাদি। খনিজগুলো কখনও এককভাবে অবস্থান করে। না। এর সাথে অন্যান্য খনিজ পদার্থ ও অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। চায়না রে খনিতে এর সাথে গ্রানাইট, কোয়ার্জ, ফেন্ডসপার, মাইকা, আয়রন, টিটানিয়া, লাইম ইত্যাদি। এ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত চায়না ক্লে বা কেওলিনের খনিগুলোর মধ্যে একটির সাথে অন্যটির সাদৃশ্য পাওয়া যায় না। কোনটি ভূ-পৃষ্ঠের উপরিভাগ থেকে নিচে আবার কোনটি পাহাড় বা কোনটি ভূত্বকের উপরি ভাগের সাথে সমান্তরালে অবস্থান করছে। আর খনির উপাদানগুলোর অনুপাতের ও তারতম্য হয়ে থাকে। তাছাড়া কে খনিগুলোর ভৌতিক গঠনের মধ্যেও বৈসাদৃশ্য দেখা যায়। যেমন:- কোন খনিতে কে অনেকটা কঠিন অবস্থায়, কোনটিতে ঢিলে ঢালাভাবে আবার কোন খনি স্তর আকারে বা কোনটি স্তরবিহীন অবস্থায় অবস্থান করছে। কোনটিতে খনিজের পুরুত্ব বেশি কোনটিতে কম।

খনিতে ক্লের অবস্থা যে রকম থাকুক না কেন উহা শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহার করার জন্য উত্তোলন করা হয়। তার পর খনিজের ভৌতিক ও রাসায়নিক গুনাবলী বিবেচনায় এনে বিশোধন করা হয়। খনি থেকে কাঁচামাল উত্তোলন করার নামই হল মাইনিং। অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় খনি থেকে খনিজ পদার্থ উত্তোলন করা হয় তাকেই ৬ মাইনিং বলে । সব খনি থেকে একই পদ্ধতিতে খনিজ পদার্থ মাইনিং করা যায় না। যদি খুব গভীর হলে যেভাবে মাইনিং করা হয়, কম গভীরতা সম্পন্ন খনি থেকে তার চেয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মাইনিং করতে হয়। খনিজ পদার্থের গঠন কঠিন হলে ব্লাস্টিং করে খনিজ ঢিলা ঢালা করা হয়। আর চিলা চালা অবস্থায় পাহাড়ে থাকলে হাইড্রোলাইসিস করে খনিজ সংগ্রহ করা হয়। হাইড্রোলাইসিস হল খনি থেকে কাঁচামাল (ক) সং করার একটি পদ্ধতি।

বাস্তবিক পক্ষে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত চায়না কে খনির বেশির ভাগ খনিতে উহার উপরিভাগে সাধারণ সারফেস ক্লে বা কাকর বা উদ্ভিদ মূল দ্বারা আবৃত থাকে। খনির উপরিভাগের এ স্তরকে ওড়ার বার্ডেন বলে ইহাথ পুরুত্ব কম বেশি হয়ে থাকে। গুড়ার বার্ডেনের পুরুত্ব ৪ হতে ৬ মিটার হলে উহা যান্ত্রিক উপায়ে অপসারণ

সিরামিকের সূচনা

করতে হয়। যদি এর পুরুত্ব কম হয় সে ক্ষেত্রে ইহা অপসারণ করার জন্য বুন্ডোজার এবং ফ্লেপার ব্যবহার করা হয়। আর পুরুত্ব বেশি হলে ইহা অপসারণ করার জন্য ব্যবহার করা হয় এক্সাকেভেটর এবং ডাম্পার। খনির যে স্থান থেকে মাইনিং শুরু করা হবে সে স্থানের ওভার বার্ডেন অবশ্যই পূর্বে অপসারণ করে নিতে হবে। উপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম সব খনি থেকে খনিজ পদার্থ মাইনিং করার পদ্ধতি এক রকম নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন। মূলত: কোন খনি থেকে খনিজ (ক্লে) উত্তোলন পদ্ধতি ঐ খুনিতে অবস্থিত খনিজের ভৌতিক অবস্থা, এর গভীরতা, বিস্তৃতি, ও খনিজের সাথে মিশ্রিত উপাদানের পরিমাণের উপর নির্ভর

করে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খনিজ পদার্থ উত্তোলন প্রক্রিয়া বাস্তব অভিজ্ঞতার উপরই নিরূপন করা হয়।

 

ওপেন পিট বা ওপেন কাস্ট পদ্ধতি :

সাধারণত বেশির ভাগ চায়না কে খনি থেকে ওপেন পিট পদ্ধতিতে ক্লে মাইনিং করা হয়ে থাকে। বাস্তবিক পক্ষে কোন খনিতে প্রাপ্ত ক্লে ডিপোজিটের গভীরতা ও কাঠিন্যতা কম হলে এ পদ্ধতিতে কে উত্তোলন করা হয়। আর যদি ক্লে বেশ কঠিন হয় সে ক্ষেত্রে রাস্টিং করে থেকে ছোট ছোট টুকরার পরিণত করে তার পর মাইনিং করা হয়।

 

 

শাইনিং মাইনিং এর প্রকারভেদ :

 

খনিতে প্রাপ্ত সব খনিজ পদার্থের ভৌতিক অবস্থা এক রকম নয়। কোনটি পাথরের ন্যায় শক্ত, কোনটি নরম আবার কোনটি পাউডারের ন্যায় হয়ে থাকে। ইহা প্রধাণত খনিজ পদার্থের উৎপত্তি হওয়ার অবস্থা ও তৎপরবর্তী কালের আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে। কোন খনি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে বেশ নিচে, কোনটি পাহাড়ে, কোনটি ভূ-পৃষ্ঠের সাথেই অবস্থান করছে। কোন খনির খনিজ পদার্থের সাথে যা পাথর (Mother rock), আনাইট, ফেল্ডস্পার, কোয়ার্জ, মাইকা, ইত্যাদি মিশ্রিত অবস্থায় আছে। কোন খনি আকারে বড় আবার কোন খনি আকারে ছোট । পৃথিবীতে এ পর্যন্ত আবিষ্কৃত চায়না কে খনির একটির সাথে অন্যটির হুবহু মিল পাওয়া যায়নি। একটির সাথে অপরটির বৈসাদৃশ্য অনেক। এ সব বিষয়গুলো বিচার বিশ্লেষণ করে মাইনিং করা হয়। খনি থেকে খনিজ পদার্থ উত্তোল পদ্ধতিগুলোকে তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়। যথা :

 

১। ওপেন পিট বা ওপেন কাস্ট পদ্ধতি।

২। আন্ডার গ্রাউন্ড বা শ্যাফট মাইনিং পদ্ধতি ।

৩। হাইড্রোলাইসিস পদ্ধতি।

 

 

 

 

My.NOT.3rd.Sub-ce_body_pe.P_14

Comments

faarhaan

অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার এই পোস্ট অনেক তথ্যবহুল। কয়লা খনি মাইনিং কি এর চাইতে ভিন্নতর।