হ্যালো বন্ধুরা! সকলে কেমন আছেন? আশাকরি সকলেই সৃষ্টিকর্তার দোয়ায় ভাল আছেন। আমিও ভাল আছি। আজ আমি আপনাদের সাথে, একটি গল্প শেয়ার করব। আশা করি, আপনাদের ভালো লাগবে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
হাবু খুবই চালাক প্রকৃতির এবং বাস্তবধর্মী লোক। সে সব কিছুই তার নিজের কন্ট্রোলে রাখতে চায়। এমনকি নিজের পরিবারের লোকজনদের কে ও। হাবু এখনো অবিবাহিত। ভাবছে বিয়ে করবে। কিন্তু বউকে কিভাবে কন্ট্রোলে রাখবে, সেই চিন্তায় হাবু মাঝেমধ্যে হতাশ হয়ে যায়। অনেকেই তাঁকে এ নিয়ে ঠাট্টা তামাশা করে। আবার হাবু অনেক পরিবারই দেখতে পায় বউয়ের দ্বারা স্বামী নির্যাতিত।
আমাদের সমাজ পিতৃতান্ত্রিক হলেও, পরিবারের ভিতরে আমরা মাতৃতান্ত্রিক। পরিবারের ভিতরে স্ত্রীর দ্বারা স্বামী শোষিত, গৃহীত এবং নির্যাতিত। আবার অনেক সময় সেই গান ও বাজে, আমার ঘরে আমি মেম্বার, আমার বউ চেয়ারম্যান!
যাইহোক হাবু সিদ্ধান্ত নিল বিয়ে তো করতেই হবে। তাহলে দেরি করে লাভ নেই। এবার হাবু মেয়ে দেখতে গেল। মেয়ে পছন্দ হলো। মেয়ের বাবা হাবু কে জিজ্ঞেস করল পন মানে যৌতুক হিসেবে কি চায়? হাবু অনেকক্ষণ চিন্তা করে বলল, তেমন কিছু না। তবে বিয়ে করে বউ নিয়ে যাবার সময় আমাকে একটি করে...
মোরগ, বিড়াল, কুকুর, ছাগল দিতে হবে। সাথে ভালো একটি ছুরি দিতে হবে। হাবুর এরকম আবদার শুনে সবাই হেসে দিল এবং সাথে সাথে আশ্চর্য হল। সবাই এর কারন জিজ্ঞেস করল। কিন্তু হাবু কিছুতেই মুখ খুললো না। মেয়ের বাবা রাজি হল।
হাবু বিয়ে করে ফেলল। এবার বউ নিয়ে বাড়িতে যাবার পালা। পালকিতে করে বউ নিয়ে যাচ্ছে। সাথে হাবল আবদার করা জিনিস গুলো ও। কিছুদুর যাওয়ার পর হঠাৎ মোরগটি জোরে শব্দ করে উঠল। হাবু বলল মোরগ দ্বিতীয়বার ডাক দিস না। তাহলে তোর কপালে শনি আছে। কিন্তু মোরগ শোনে কার কথা। আবারো জোরে শব্দ করলো। এবার হাবু ছুরিটি হাতে নিল এবং মোরগটিকে জবাই করে ফেলল।
হাবুর বউ দেখে ভয় পেয়ে ফেলল। আবার কিছুক্ষণ পর, ইঁদুর দেখে বিড়ালটি মিউ মিউ করা শুরু করলো। সে বিড়ালটিকে ও হত্যা করে ফেলল। তারপর সে একইভাবে কুকুর এবং ছাগলটিকে ও জবাই করে ফেলে। আর বারবার বলতে থাকে একবার বলেছি শব্দ করিস না। তারপরও শালাগুলো শব্দ করেছে, তাই মেরে ফেললাম। হাবুর বউ সবগুলো দৃশ্য দেখলো এবং মনে মনে খুবই ভয় পেল।
আর মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, বেঁচে থাকলে জীবনেও হাবুর সাথে তার মতের বিরুদ্ধে কথা বলবে না। এমন কি সে অপছন্দ করে এমন কাজ কখনো করবে না। হাবুর বউ মনে মনে আল্লাহকে ডাকা শুরু করলো। যেন তাকে মেরে না ফেলে। এভাবে কয়েক দিন যেতে থাকলো।
হাবুর বউ কখনো হাবুর অবাধ্য হয় না। হাবুর অনুমতি ছাড়া কোথাও যায় না কিংবা কারো সাথে দেখা ও করে না। একদিন হাবুর শশুর হাবুর বাড়িতে বেড়াতে আসে। তাকে বাড়ির বৈঠক ঘরে রাখা হয়। কিন্তু একবারও হাবুর বউ তার বাবাকে দেখতে যায়নি। পরে হাবু আসলে হাবুল অনুমতি নিয়ে বাবার সাথে দেখা করতে যায়।
বাবা জিজ্ঞেস করল আমি অনেক আগে এসেছি কিন্তু আমার সাথে তুমি কথা বললে না কেন? সে বলল স্বামীর অনুমতি ছিল না। হাবু এর শ্বশুর চিন্তা করল বাপরে বাপ! আমার মেয়ে তো এরকম স্বভাবের ছিল না। যে কিনা অনেক ঝগড়াওয়ালি ছিল। কি ভাবে কি সম্ভব!
এবার হাবুর শ্বশুর হাবুকে বলল, বাবা তোমার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। তোমার শাশুড়ি কেও তোমার বউয়ের মত বানিয়ে দাও। হাবু হাসল এবং বলল,
কাঁচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস
হাবুর শশুর বুঝে উঠতে পারল না। বলল, বাবা কি বললা! কিভাবে কি সম্ভব?
হাবু বলল এক কাজ করেন। বাড়িতে গিয়ে একটি মাটির পাতিল নিয়ে আসেন। শশুর তাই করল। এবং হাবু বাতিলে অপর অংশটি সুন্দর করে কেটে ফেলল। তারপর শশুর কে বললো চলুন এটিকে আবার জোড়া লাগাই। তারপর দেখি এটি কতটা টেকসই হয়! তারা সুন্দর করে জোর লাগালো কিন্তু দুইদিন পর আবার জোড়া ছুটে গেল।
তখন হাবু বলল, নতুন নতুন কোন জিনিস ঠিক না করলে, পরবর্তীতে সেটি আর ঠিক করা যায় না। কথায় আছে ফাস্ট ইম্প্রেশন মানে লাস্ট ইম্প্রেশন। বউয়ের সাথে প্রথমে তোষামোদি করলে আর তাকে নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না।তখন আমরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে মাতৃতান্ত্রিক শাসনের কবলে পড়ে যাই। এটা অস্বীকার করার মত কিছুই নয়।কিছুদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম প্রায় 80 শতাংশ পুরুষ তার স্ত্রীর দ্বারা নির্যাতিত। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে। ধন্যবাদ সকলকে। জানিনা গল্পটি আপনাদের কেমন লেগেছে।ভালো লাগলে অবশ্যই আপনারা আমাকে উৎসাহ প্রদান করবেন। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

