বিসমিল্লাহির রহমানীর রহিম আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ,
আজকের আলোচ্য বিষয়::: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম মনীষীদের অবদান।
এই বিষয়ে কিঞ্চিৎ পরিমাণ আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ।
আজ গোটা বিশ্ব সাইন্স বিজ্ঞান কে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা চলছে। এই আধুনিক বা উন্নতির যুগে অভাবনীয় অকল্পনীয় অনেক বিস্ময়কর বিষয় আবিষ্কৃত হয়েছে এবং হচ্ছে , যা বিশ্ব মানব কে তাক লাগিয়ে দেয়। আর এ সকল নব-নব জিনিসের আবিষ্কারক উদ্ভাবক হিসেবে আজ বিজাতিরা পরিচিত। এ কারণেই সকলের মনে কেবল একটি প্রশ্ন জেগে উঠেছে।এসকল গবেষণামূলক কাজ মুসলমানদের কি ভূমিকা রয়েছে?
অবশেষে আপন জ্ঞান চৈতন্য তার দরুন জবাবে না সূচক শব্দ বলে ঘৃণা প্রকাশ করতে থাকে। এমনকি তারা জাতির কলঙ্ক অপদার্থ বলেও দ্বিধাবোধ করে না। আমার একান্ত বিশ্বাস যে,আমার এই স্বল্প আলোচনার দ্বারা তারা তাদের প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবে।
আধুনিক বিজ্ঞানের শুরু লগ্ন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত যা কিছু আবিষ্কৃত হয়েছে ও কিয়ামতের আগ পর্যন্ত যা কিছু আবিষ্কৃত হবে এর প্রত্যেকটির ব্যাপারে কুরআন বা হাদীসের ইঙ্গিত রয়েছে আর সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভ কালে কোরআন হাদিসরিচার্জ করে সর্বপ্রথম মুসলিম মনীষীগণ বিজ্ঞানের মূল থিউরি উদ্ভাবন করেন। এ সম্পর্কে অনেক গ্রন্থ রয়েছে। এবং তারা অনেক গ্রন্থ রচনা করেন,সাথে সাথে অনেক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করে জাতিকে গবেষণামূলক কাজে রাজ পথ প্রদর্শন করে গেছেন। তখন বিজ্ঞানের জ্যোতিময় ভুবনে ইউরোপিয়ান ও জার্মানিদের নাম গন্ধ ছিল না। যা ইদানিং বৈজ্ঞানিক বক্তব্য দ্বারা ও প্রমাণিত হয়।
এবার আপনাদের সম্মুখে আমি সংক্ষেপে মুসলিম মনীষীদের আবিষ্কৃত কিছু জিনিস তুলে ধরছি।যার দ্বারা আমাদের অবদান সূর্যের ন্যায় ঝলমল করে উঠবে।লক্ষ্য করুন বিমানের দিকে এর প্রধান আবিষ্কারক হলেন হাকিম আব্বাস বিন ফরনা নামে এক মুসলিম বিজ্ঞানী , বিশ্ববাসী তার অবদানের জন্য চির ঋণী। এমনিভাবে উক্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম ঘড়ি আবিষ্কার করেন বলে ইতিহাস সাক্ষ্য বহন করে। শুধু এখানেই শেষ নয় সর্ব প্রথম কাগজ আবিষ্কার করেন তৎকালীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের লীলাভূমি উন্দুলুস স্পেনের মুসলমানগন, যে কাগজ এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করার কোন অপেক্ষা রাখে না।
সর্ব প্রথম ছাপাখানা প্রেস মেশিন ও ওই কোন দেশের অধিবাসী মুসলমানরাই আবিষ্কার করেন। মুসলমানরাই সর্বপ্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং বিজ্ঞানের গোড়াপত্তন করেন। এমনিভাবে ঊর্ধ্বজগতে পর্যবেক্ষণের জন্য যে মানমন্দিরের কথা আমরা শুনে থাকি তার আবিষ্কারক হলেন হাজ্জাজ ইবনে মাজাহর ও হুসাইন ইবনে ইসহাক নামে 2 জন মুসলিম বিজ্ঞানী।
চিকিৎসাশাস্ত্রে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান চিকিৎসা শাস্ত্রে মুসলমানদের অবদান চিরস্মরণীয়। আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতির মূল রয়েছে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অশেষ ভূমিকা। যেমন আলী তাবারি, হাসান ইবনে হাইসাম। আবু বকর আল রাজি সহ অনেক বিজ্ঞানী।
আলী তাবারি:আলিতা বাড়ি চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ফেরদাউস আল হিকমাহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বর্গ নামক গ্রন্থ লেখার মাধ্যমে. এই গ্রন্থটি আরবি চিকিৎসা শাস্ত্রের প্রথম বিশ্বকোষ বলা যেতে পারে.এতে চিকিৎসার ধারা ও পদ্ধতি ঔষধ তৈরির প্রক্রিয়া গাছ গাছরার গুনাগুন প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে,
ইবনে সিনা: ইবনেসিনা বিশ্ব বিখ্যাত চিকিৎসাবিদ ও দার্শনিক. চিকিৎসা শাস্ত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তাকে আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্র ও চিকিৎসা প্রণালী এবং শল্যচিকিৎসার দিশারী মনে করা হয়. ইবনে সিনা চব্বিশটি ছোট একটি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেছিলেন. চিকিৎসা বিষয়ে কানুন ফিততিব গ্রন্থটিচিকিৎসাশাস্ত্রের বাইবেল বলে উল্লেখ করেছেন.
এই ছিল মুসলিম মনীষীদের অবদান বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বে অবদান রেখেছিল মুসলিম মনীষী, আশা করি আপনারা বুঝতে পেরেছেন এই বলে আজকের আলোচনা শেষ করছি , আসসালামু আলাইকুম।


