শাসনতন্ত্র

mahmud50
উদ্যোগে সিলেটে এক ঐতিহাসিক উলামা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন আরামা সাইয়িদ সুলায়মান নদভী। সম্মেল শাসনতন্ত্রের একটি খসড়া পেশ করা হয়। অতঃপর ১৯৫১ সালে করাচীতে আল্লামা সাইয়্যিদ সুলায়মান নদভীর সভাপতিত্বে সকল দলমতের উলামায়ে কেরামের এক ঐতিহাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে ইসলামী শাসনতন্ত্রের ঐতিহাসিক ২২ দফা মূলনীতি প্রণীত ও অনুমোদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের হাতে তা অর্পণ করা হয় এবং সারা দেশে ইসলামী শাসনতন্ত্রের আন্দোলন জোরদার করা হয়। ১৯৫২ সালের ১৮,১৯,২০ শে মার্চ কিশোরগঞ্জের হারবত নগরে জামিয়তের এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে দেশবরেণ্য উলামায়ে কিরাম উপস্থিত ছিলেন। এ সম্মেলনে এমর্মে সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকার সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিলে জমিয়তে উলামা সে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আঞ্জাম দেওয়ার জন্য জমিয়তের একটি পৃথক রাজনৈতিক সেল থাকবে, আর যেহেতু জমিয়তে উলামার রাজনৈতিক তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য হবে নেযামে ইসলাম তথা ইসলামী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, অতএব এই সেলের নাম হবে 'নেযামে ইসলাম পার্টি'। মাওঃ আতাহার আলীকে উক্ত নেযামে ইসলাম পার্টির সভাপতি, মাও. মুসলেহ উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক ও মাও. আশরাফ আলী (ধর্মমঙ্গলী) কে সহ-সম্পাদক

মনোনীত করা হয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জমিয়ত নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে ১৯৫৩ সালে ঢাকার পল্টন ময়দানে নেয়ামে ইসলাম বা ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবিতে ২ দিন ব্যাপী এক ইসলামী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জমিয়ত সভাপতি মাও, আতহার আলীর আহ্বানে পালিত হয় নেযামে ইসলাম দিবস।

একদিকে ইসলামী শাসনতন্ত্রের দাবী অপরদিকে মুসলিম লীগ সরকারের এ ব্যাপারে অনীহা ও জাতির সঙ্গে প্রদত্ত ওয়াদা খেলাফীর এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির ফলে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সুদীর্ঘ ৯ বৎসরেও মুসলিম লীগ সরকার কোন শাসনতন্ত্র প্রণয়নে ব্যর্থ হয়। অথচ ভারত সরকার মাত্র ১ বৎসরের মধ্যেই শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করে ফেলে। এতে দেশবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। দেশে নির্বাচনের দাবী উঠে ১৯৫৪ সালে সরকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেয়। মুসলিম লীগের ইসলামী শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে জাতির নিকট প্রদত্ত ওয়াদা খেলাফীল কারণে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ মুসলিম লীগ থেকে তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে মাওলানা ভাসানীর আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির সাথে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট গঠনকালে কৃষক প্রজা পার্টি ও আওয়ামী মুসলিম লীগের সাথে নেয়ামে ইসলাম পার্টি নাম ব্যবহার করা হয়। নির্বাচনে মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয় ও-হক-ভাসানী আতাহার আলী যুক্তফ্রন্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র প্রণীত হয়। যার মধ্যে এমন কিছু ইসলামী ধারা সন্নিবেশিত হয়েছিল যা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

Comments