আমার মা। মাকে আমি ভালোবাসি। আমার জন্য কত কষ্টই না তুমি করেছ মা। মনে পড়ে এক রাতের ঘটনা। তখন আমি ক্লাস থ্রি কি ফোরে পড়ি। আমার কি জ্বরটাই না হল সে রাতে। সারাটা রাত আমি জ্বরে কাতরাচ্ছিলাম। ঘরে জ্বরের ঔষধ ছিল না। দোকান পাটও অত রাতে বন্ধ হয়ে গেছে। মা আমার মাথা ধুইয়ে দিলেন। সারাটা রাত আমার সাথে জেগে রইলেন। সারাদিন পরিশ্রমের পর যে কোন ব্যাক্তিরই ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসার কথা। অথচ মায়ের চোখ থেকে ঘুম যে ছুটে কোথায় গেল। কি যেন একটা উৎকন্ঠা মায়ের মুখকে এতটুকু করে দিয়েছিল। এমন কত রাত যে মা আমার না ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন তার কি হিসেব আছে। আমি যখন কোলে ছিলাম । যে বয়সের স্মৃতি আমার একটুও মনে নেই। কতবার যে ক্ষুধায় কেদে উঠেছি। মা আমার ঠিকই বুঝে যেতেন। সেই মাকে আমি কিই বা দিতে পেড়েছি।
আমার বাবার ভালোবাসা ও কম না তাই বাবার ভালোবাসা সম্পর্কে এখন আর একটু গল্প করবো
ছেলেগুলো বাবার সঙ্গে কথা বলা শুরু করে। তা দেখে আশপাশের ছেলেমেয়েরাও জড়ো হতে থাকে। সোহেল দূর থেকে জটলা দেখে। কি হচ্ছে তা দেখতে ও এগিয়ে আসে। কাছাকাছি এসে বাবার চোখে চোখ পড়ে ওর। দুজনই থমকে যায়। সোহেল কোনো কথা না বলে অন্যদিকে চলে যায়। দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বাবা ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। বাবা বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাকে এই কাপড়ে দেখে ও পরিচয় না দিয়ে এড়িয়ে গেল!
বাবা চোখ দুটোকে নিচে নামিয়ে ফেলেন। তার চোখগুলো যেন অপলকভাবে ফ্লোরের স্কয়ার টাইলসগুলোর পরিমাপ করছিল। টাইলসের এই পরিমাপই যেন তার একমাত্র কাজ! সে নির্লিপ্তিভাবে তাকিয়ে ছিল টাইলসের দিকে, আর ছেলেগুলো তাকিয়ে ছিল বাবার দিকে। বাবা এতক্ষণ নিজের পোশাকের দিকে দৃষ্টিপাত করেনি। কিন্তু সোহেল যখন এভাবে চলে গেল বাবার তখন ভাবান্তর হলো। পুরাতন জামাকাপড় পড়ায় ও বন্ধুদের সামনে বাবাকে পরিচয় করিয়ে দিতে পারল না!
বাবাকে ঘিরে থাকা ছেলেমেয়েরা তখনো বাবাকে নানা প্রশ্ন করছিল। উদ্দেশ্য যেন বুড়োটি যেন তার ছেলেকে খুঁজে পায়। বাবা ভাবলেন,তার এখানে থেকে আর কাজ নেই। ছেলে তাকে দেখে এড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ সে চায় না এভাবে তার বাবাকে দেখতে, এভাবে তার বাবার সঙ্গে অন্য কাউকে পরিচয় করিয়ে দিতে। কাজেই আর ছেলের পরিচয় দিয়ে ওর সম্মানকে খাটো করা ঠিক হবে না।

