জনপ্রতিনিধিরাই যদি জনগণের আস্থার প্রতীক না হন, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

জনপ্রতিনিধি মানেই হচ্ছে জনগণের কণ্ঠস্বর—তাদের আশা, বিশ্বাস ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজকের দিনে আমরা যাদের প্রতিনিধিত্বের আসনে দেখি, তাদের অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও স্বার্থপর রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এমনকি অনেক সময় দেখা যায়, নির্বাচনের সময় যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তা নির্বাচিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিস্মৃত হয়ে যান তারা।

সাধারণ মানুষ ভোট দেয় বিশ্বাস করে, যে এই লোকটা তাদের কথা বলবে, তাদের দুর্দশা দেখবে, এবং তাদের পক্ষে অবস্থান নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, সেই ভোটই যেন হয়ে দাঁড়ায় ভোগ-বিলাস, প্রভাব-প্রতিপত্তির টিকিট। তখন প্রশ্ন জাগে—আসলে এই গণতন্ত্র কার জন্য?

যখন কোনো অন্যায় ঘটে, মানুষ পুলিশের কাছে যায়। পুলিশ ব্যর্থ হলে মানুষ বিচার চায় আদালতে। আর রাজনীতি যদি সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে জনগণ শেষ ভরসা রাখে জনপ্রতিনিধির ওপর। কিন্তু সেখানেও যদি নিরাশ হতে হয়, তবে তারা কোথায় যাবে?

এই প্রশ্ন শুধু হতাশা নয়, এটি একটি দাবি—জনগণ চায় এমন প্রতিনিধি, যিনি সত্যিকারের সেবক হবেন, নেতা নয়। জনগণের আস্থা ভেঙে দিলে নেতৃত্ব আর নেতৃত্ব থাকে না, সেটা হয়ে যায় নিছক দখলদারি।

আমরা আজ যেখানে দাঁড়িয়ে, সেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জবাবদিহি এবং নৈতিকতার। নইলে একদিন মানুষ বিশ্বাস করতে ভুলে যাবে—এবং বিশ্বাস হারালে, সমাজই ভেঙে পড়ে।

Comments