বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরাটা অনেকেই ঝামেলা মনে করে, কিন্তু আমি মনে করি এটা শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং নিজের জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল থাকার একটি বহিঃপ্রকাশ। রাস্তায় বের হলে আমরা অনেক কিছুর মুখোমুখি হই—যেমন বেপরোয়া ড্রাইভার, হঠাৎ করে রাস্তা পার হওয়া মানুষ বা যানজটের ভেতর থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসা অন্য কোনো গাড়ি। এই সবকিছুর মাঝে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে আমাদের মাথা। আর একমাত্র হেলমেটই পারে সেই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটাকে সুরক্ষা দিতে।
অনেক সময় খুব ছোট একটা ধাক্কাও বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে যদি মাথায় আঘাত লাগে। আমি একবার নিজের চোখে দেখেছি, এক লোক হেলমেট না পরেই বাইক চালাচ্ছিল—একটা সিএনজির সঙ্গে ধাক্কা লেগে পড়ে গেল। মাথায় আঘাত পেয়ে সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে গেল সে। হয়তো হেলমেট থাকলে এমনটা হতো না। সেই ঘটনার পর থেকেই আমি আর কখনও হেলমেট ছাড়া বাইক চালাই না।
হেলমেট শুধু দুর্ঘটনার সময় সুরক্ষা দেয় না, বরং রোদ, বৃষ্টি, ধুলাবালি, এমনকি পোকামাকড় থেকেও রক্ষা করে। আমি যখন দ্রুত গতিতে বাইক চালাই, তখন বাতাস মুখে এসে লাগে—হেলমেট না থাকলে চোখে পানি চলে আসে, মনোযোগ নষ্ট হয়।
সবচেয়ে বড় কথা, আইনেও হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আমি মনে করি, আইন মানা যেমন নাগরিক দায়িত্ব, তেমনি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরা আরও বেশি জরুরি। দুর্ঘটনা কখনই বলে কয়ে আসে না। তাই আমার মতে, বাইক চালাতে গেলে হেলমেট না পরাটা নিজের জীবনের সঙ্গে ঝুঁকি নেওয়ার মতোই। হেলমেট একটা ঝামেলা নয়, এটা আমাদের জীবন বাঁচানোর একটা ঢাল।


