আদালতে ঘুষ বাণিজ্য: ন্যায়বিচারের অন্ধকার দিক

আমাদের সমাজে বিচার ব্যবস্থাকে বলা হয় “ন্যায়ের শেষ আশ্রয়স্থল”। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ও কাছ থেকে দেখা কিছু ঘটনার ভিত্তিতে বলতে বাধ্য হচ্ছি, সেই আশ্রয়স্থলটিতেই এখন ঘুষ বাণিজ্যের ভয়াবহ ছাপ পড়েছে। এটি বলা কষ্টকর হলেও, সত্যটা চাপা দিয়ে তো রাখাই যায় না।

আদালতের ভেতরের ঘুষচক্রটা সরাসরি ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। অনেক সময় দেখা যায়, মামলার ফাইল এগিয়ে নেওয়া, তারিখ দ্রুত পাওয়া, জামিন আদেশের জন্য ‘তদবির’ করা—এসব ক্ষেত্রে কিছু অসাধু আইনজীবী, আদালতের কর্মচারী এমনকি কখনো কখনো বিচার বিভাগীয় সহকারীরাই ঘুষ নেন। কখনো তা খোলাখুলিভাবে, আবার কখনো আকার-ইঙ্গিতে।

ঘুষের এই বাণিজ্য সাধারণত “অফ দ্য রেকর্ড” হয়, আর তাই প্রমাণ করাও কঠিন। আমি নিজে একজন আত্মীয়ের মামলার প্রক্রিয়ায় দেখেছি, কিভাবে কোর্টের ক্লার্ক টেবিলের নিচ দিয়ে টাকা নিচ্ছেন শুধু একটি কাগজ একটু আগে জমা দেওয়ার জন্য! সেখানে কেউ কিছু বলতেও পারছে না, কারণ বললেই হয়রানির শিকার হওয়ার সম্ভাবনা।

আরেকটা দিক হলো, আইনজীবী ও বিচারকেদের মাঝে থাকা কিছু অপেশাদার সম্পর্ক। কেউ কেউ বিচারকের ঘনিষ্ঠ পরিচিতি ব্যবহার করে "রায়ে প্রভাব" ফেলানোর চেষ্টা করেন। এসবই ঘুষের ঘুরপাক খাওয়া কৌশল।

সবচেয়ে কষ্ট লাগে তখন, যখন দেখি টাকার অভাবে কারো ন্যায়বিচার পেছনে পড়ে থাকে, আর ধনী পক্ষ সহজেই মামলা মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এই ব্যবস্থা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কতটা ভয়ংকর, তা সহজেই আঁচ করা যায়।

পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের সচেতন হতে হবে। ঘুষ যে শুধু অর্থনৈতিক নয়, এটা ন্যায়ের উপর আঘাত—এই বোধটুকু যতদিন না সবার মধ্যে আসে, ততদিন হয়তো আমরা সত্যিকারের বিচার দেখতে পারব না।

Comments