আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান না



আমরা যারা দেশের রাজনীতি নিয়ে ভাবি, তারা অনেক সময় আবেগে বা রাগে কিছু চরম সিদ্ধান্তের কথা বলি। অনেকেই আজকাল বলছেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত। কিন্তু একটু ভেবে দেখলে বুঝা যায়, এটা কোনো স্থায়ী সমাধান না—বরং উল্টো ক্ষতির দিকেই যেতে পারে।


আওয়ামী লীগ শুধু একটা রাজনৈতিক দল না, এটা বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা বড় অংশ। এই দল মুক্তিযুদ্ধ করেছে, দেশের স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দিয়েছে। হ্যাঁ, এখন হয়তো তাদের অনেক কাজ নিয়ে বিতর্ক আছে, সমালোচনা আছে, কিন্তু তাই বলে পুরো দলটাকে নিষিদ্ধ করা? এটা কি গণতন্ত্রের পথে যায়?


রাজনীতিতে সমস্যা থাকলে সেটার সমাধান হতে হবে কথা বলে, মতামতের মাধ্যমে, নির্বাচন দিয়ে। কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তাহলে বিচার হবে—তাদের বিরুদ্ধে মানুষ কথা বলবে, ভোট দেবে। কিন্তু দল নিষিদ্ধ করলে সেটা মানুষকে চেপে ধরার মতো হয়। এতে মানুষ ক্ষেপে যেতে পারে, বিকল্প পথে চলে যেতে পারে—যেটা দেশের জন্য ভালো না।


আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করলে কি দেশের সব সমস্যা মিটে যাবে? কখনোই না। বরং তখন আবার নতুন সংকট শুরু হবে। দেশের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হবে, বিভক্তি বাড়বে। আমাদের দরকার শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ, যেখানে সবাই মত প্রকাশ করতে পারে, ভিন্নমত থাকলেও সহ্য করার মানসিকতা থাকে।


গণতন্ত্র মানে শুধু পছন্দের দল রাখা না, অপছন্দের দলকেও জায়গা দেওয়া। তাই যারা আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন, তারা সমালোচনা করুন, ভোটে হারানোর চেষ্টা করুন, কিন্তু নিষিদ্ধ করার মতো চরমপন্থা গ্রহণ করা কখনই দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়।


সবশেষে বলবো, দল নয়—ব্যক্তি বা কাজ যদি খারাপ হয়, সেটা আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু পুরো একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা মানে হচ্ছে লাখ লাখ মানুষের কণ্ঠ রোধ করে দেওয়া। তাই আমার মতামত, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা কোনো সমাধান না—বরং দরকার শক্তিশালী গণতন্ত্র, যেখানে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা আর সহনশীলতা থাকবে।

Comments