তারপর তাকে বলল, মামুন আমি সবকিছু ছেড়ে তোমার কাছে এসেছি। এসো, আমরা দুজনে এমন জায়গায় চলে যাব, যেখানে আমাদের দুজনের মধ্যে কেউ বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়াবে না। আমরা এমন সুখের নীড় রচনা করবো, যেখানে শুধু থাকবে সুখ আর সুখ। নাহিদার চোখে মুখে আনন্দের ঢেউ খেলে যাচ্ছে। কিন্তু হারামে আরাম নেই, সে কথা তার মনে থাকেনা। তাই শুরুতে ভাগ্য খারাপ। মামুন নাহিদাকে দেখিয়ে কোন বিপদে পড়ে কিনা সেই ভয়ে পিছুটান দেয়। তদুপরি সেদিন নাহিদার ননদের বকুনিতে এবং নানারকম কথা চিন্তা করে বিভিন্নভাবে মাথা খাটাই আজ। মামুন নাহিদার কথা শুনে উত্তরে যা বলল, তা নাহিদার হৃদয়ের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে ভেঙ্গে খানখান করে দিল। মামুন বলল, ওরে পাগলি! তোর কি মনে নেই তোর বিয়ে হয়েছিল। এবার তুই গর্ভবতী হয়ে ছিলি। এত কিছু হওয়া সত্ত্বেও তুই ভাবলি কি করে যে, তুই আমার কাছে চলে এলে আমি তোকে নিয়ে সুখের ঘর বাধবো? মামুন আরো বলল, তুই তোর এত সুখের সংসার ছেড়ে এবং এত ভালো একজন স্বামীকে ছেড়ে আমার কাছে চলে এসেছি শুধু অবৈধ ও পাপাচারজনিত পরকীয়ার টানে। একথার গ্যারান্টি কি যে, তুই আবার নতুন কারো অফার পেলে আমাকে ছেড়ে তার কাছে চলে যাবি না? যেখানে আমার জন্য নিয়ে নিজের ঘর গোশত সন্তানকে হত্যা করেছিস, সেখানে তুই আবার অন্য কাউকে পেলে আমার সন্তানকে যে হত্যা করবি না, তারাই বা বিশ্বাস কি? মামুন থ্রেড দিয়ে বলল, যেখানে আমাকে পাওয়ার জন্য তুই তোর এত ধনী স্বামী হৃদয়ের আঘাত করতে দ্বিধাবোধ করিস নি, সেখানে আমার মত একজন বেকার এর কাছে যে তুই সারাটাজীবন না খেয়ে পড়ে থাকবি, তারই বা গ্যারান্টি কি? শোন! যে মেয়ে বিয়ের পূর্বেই অন্য ছেলের হাত ধরে, সে কতটুকু ভালো হতে পারে তা আমার জানা হয়ে গেছে। তারপর শেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে মামুন বলল, আমি তো এতদিন তোর সাথে মজা করছিলাম। কিন্তু তুই যে সত্যিই এমন সর্বনাশা কাজ করবি তা কল্পনাও করিনি। এ অবস্থায় তোকে আশ্রয় দিলেও আমার বিপদ হবে।
তোর জন্য আমি আমার লাইফটাকে নষ্ট করতে পারিনা। তাই তুই আমার আশা না করে অন্য কোথাও চলে যা। একথা শুনে নাহিদার মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়ল। তার পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। তার চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা হয়ে এলো। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লো । মনের অজান্তে তার দু চোখ দিয়ে অঝোরধারায় অশ্রু প্লাবন বাইতে লাগলো। মনে মনে ভাবল, তার তো সবকূলই শেষ। এখন সে এই চেহারা মানুষকে কিভাবে দেখাবে! টাইম নষ্ট করল এ জীবন আর রাখব না। এ কথা চিন্তা করে কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে সোজা রেললাইনে চলে গেল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর সে চিন্তা করল, এ জীবনের সুখ তো গেলোই, আত্মহত্যা করলে পরকালের জীবন বরবাদ হয়ে যাবে, এসব ভেবে সে বাড়িতে ফিরে গেল। নাহিদার মা বাবা তাকে পুনরায় কোন ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়ার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু তার জীবনে কলঙ্কজনক ঘটনা শুনে সবাই পিছু হটে যায়। অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে বাড়ির পাশের এক হতদরিদ্র ছেলের কাছে তাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। শেষ হানিচিগা একজন দিনমজুর। হলুদ মরিচের মিলে কাজ করে যা পায় তা দিয়ে সংসার চালায়। আর কোনদিন রোজগার না হলে হয়তো সেদিন অনাহারে দিন কাটাতে হয়। এভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে কাটছে নাহিদার জীবন। এখন সে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে পরকিয়ার কি পরিণতি। আজ তার রূপ যৌবনের অহংকার নেই। রাফাতের সুখের সংসারে জানো মাঝে মাঝে তার বুকটা হাহাকার করে ওঠে। নিজেকেই নিজে ধিক্কার জানায় আর চোখের পানি ফেলে। হে বোন! তোমার অবস্থা যে নাহিদার চেয়ে ভাল হবে, তা তুমি কখনো ভেবো না। বরং তোমার অবস্থা এরচেয়ে আরো করুণ হতে পারে। অতএব, বোন আমার! আমি তোমার একজন দরদী বান্ধবী হিসেবে, তোমার হিতাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে তোমাকে আগাম সতর্ক করছি। আমাদের পক্ষ থেকে করজোড়ে অনুরোধ করছি, তুমি এই অবৈধ পথ পরিহার করে কল্যাণের পথে ফিরে এসো। না হয় এর প্রতিফলই হবে, যার বোঝা তুমি বহন করতে সক্ষম হবে না। সুতরাং এ ভাইয়ের অনুরোধটুকু রক্ষা করো। তোমার এই প্রস্ফুটিত ফুলের জীবন টাকে এভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করো না। নিজেকে ডাস্টবিনের আবর্জনা মনে করো না। নিজেকে মানুষ মনে করো। এই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মহামূল্যবান।
হয়তোবা এখন তা তুমি অনুধাবন করতে পারছ না। কিন্তু সে দিন ঠিক বুঝতে পারবে, যে দিন তোমার দেহ নামক খাঁচা থেকে প্রাণ পাখিটা উড়ে যাবে। কিন্তু হে বোন! সেদিন অনেক দেরি হয়ে যাবে! এ পর্যন্ত পড়ার পর সাদিয়া একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো এবং বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে লামিয়ার দিকে দৃষ্টি দিল। দেখল, লামিয়ার চোয়াল বেয়ে বেয়ে চোখের অশ্রু বিন্দু আকারে মাটিতে পড়ছে। সাদিয়া তার চেয়ার থেকে উঠে লামিয়ার পাশে গিয়ে তার মাথায় হাত রেখে বলল, কিরে কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে? সাদিয়ার কথা শুনে লামিয়া এবার নবজাতক শিশুর মতো চিৎকার করে কাঁদতে লাগল। বাঁধভাঙ্গা জোয়ারের মত তার চোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। সাদিয়া তাকে চেয়ার থেকে তুলে খাটের উপর বসাল। আর তার মাথায় হাত বুলাতে লাগল। কিছুক্ষণ পর যখন লামিয়ার অবস্থা স্বাভাবিক হলো, তখন সে নিজের থেকে বলা শুরু করলো। আমি একজন ছেলেকে ভালোবাসি। তার নাম আকাশ । সে আর আমি একই স্কুলে লেখাপড়া করতাম । দু বছর যাবত আমাদের এই সম্পর্ক। সে আমাকে খুব ভালোবাসে। আমিও তাকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসি। আমাদের এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল যখন আমি অষ্টম শ্রেণীতে লেখাপড়া করি তখন। আমি সেই বছর ওই স্কুলে নতুন ভর্তি হয়েছি। আকাশ যখন দশম শ্রেণীতে পড়ে। সে সবসময় আমার পিকের দূর থেকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতো। আকাশের ক্লাসরুম এবং আমাদের ক্লাশরুম এমন পজিশনে ছিল যে, সে যেখানে বসত সেখান থেকে আমাকে স্পষ্টভাবে দেখা যেত। আকাশ ক্লাসের পুরো সময়টা আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো। আবার আমি যখন মাঝে মাঝে তার দিকে দৃষ্টি ফেরাতেম তখন সে চটজলদি মাথাটা এদিক-ওদিক ঘুরিয়ে ফেলত। কিন্তু আমার সামনে এসে কিছু বলার সাহস পেত না। তার বাড়ি আমাদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে। অন্য এলাকায় তার বাসা।
কিন্তু সে বেশিরভাগ সময় আমাদের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করত। একদিন তো এমন হয়েছে যে, আমাদের এলাকার কিছু চাইলে তাকে সন্দেহ করে হুঁশিয়ার করে বলে দিয়েছিল, যেন সে এলাকাতে আর না আসে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! একদিন রাতের বেলা সে আমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ কয়েকটা ছেলে চোর চোর বলে একটি ছেলের পিছু ছুটছিল। তখন আমি আমার রুমে পড়ার টেবিলে বসে পড়ছিলাম। তখন আকাশ আমাকে দেখে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজেকে পরিপাটি করার চেষ্টা করছিল। এদিকে ছেলেগুলো চোর চোর বলে তার দিকেই ধেয়ে আসছিল, আকাশ যখন আমার সামনে নিজেকে হিরো হিসেবে প্রকাশ করার এক সুবর্ণ সুযোগ মনে করল। সে শার্টের হাতা বাস করে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে সেই চোরটা কে ধরে ধপাস করে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার মুখের উপর কয়েকটা ঘুসি লাগিয়ে দিল। আকাশের মুষ্টিবদ্ধ হাতের শক্ত ঘুষিতে সে ছেলেটি আহত হয়ে কুকিয়ে বলে উঠলো, ভাই আমারে ছাইড়া দেন, আমি চোর না, আমি চোর না।' একথা শুনে আকাশ বলল, ধরা খাওয়ার পর সব চোরই একথা বলে । এই বলে সে তাকে আরো কয়েকটা লাথি ঘুষি মারলে এবং প্রতিটি আঘাত করার সময় সে আমার দিকে তাকাতো আর তার চাহনি দেখে মনে হতো, যেন সে ভাবছে, কোন স্টাইলে প্রহার করলে তাকে সিনেমার নায়কের মত লাগবে আর আমার হৃদয় কে জয় করতে পারবে। এমন সময় যে ছেলেরা চোর চোর বলে ছেলেটি পিছু নিয়েছিল, তারা এসে মাটিতে পড়ে থাকা সেই চোরটা কে নামের এ আকাশকে ধরে আচ্ছা ভাবে পেটাতে শুরু করল। তারা আকাশকে মেরে রক্তাক্ত করে ফেলেছে। সে দুর্বল হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। এমন সময় মসজিদ থেকে এসে নামাজ পরে আসা এক মুরুব্বী দূর থেকে হট্টগোল শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এলেন এবং তাদের মারামারি বন্ধ করে বিস্তারিত ঘটনা জানতে চাইলেন। তখন সেই ছেলেগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলতে লাগলো, এই ছেলেটা অন্য এলাকায় থাকে। কিন্তু সব সময় এখানে এসে ঘুরাঘুরি করে। তখন থেকে আমরা তাকে সন্দেহ করতাম। তাই আমাদের বন্ধু রাসেল তাকে এই এলাকায় আসতে নিষেধ করেছিল। সেজন্য আজ সেরা সেলফি মারার জন্য এখানে ফাঁদ পেতে বসে ছিল। আজ তাকে সামনে পেয়েই মেরে আহত করে সেদিনকার প্রতিশোধ নিয়েছে। আমরা যদি আরেকটু দেরি করে আসতাম, সে হয়তো তাকে মেরেই ফেলত। তাদের মুখে এসব কথা শুনে আকাশ আহত সুরে বলল, চাচা! ওরা ভুল বুঝছে। আসলে আমি এখানে একাকী দাঁড়িয়ে ছিলাম। তখন দেখি তারা দূর থেকে চলছে বলে এই ছেলেটি পিছু নিয়েছিল।
আমি জানতাম না এই ছেলেটি সেদিন আমাকে নিষেধ করেছিল। আমি ভাবলাম হয়তো সে চুল হবে এই ভেবে আমি তাকে ধরে মারা শুরু করলাম। আকাশের মুখে একথা শুনে ছেলেগুলো মাথা নিচু করে ফেলল। তখন মুরুব্বী লোকটি তাদের জিজ্ঞাসা করল, কি? সে যা বলছে, তা কি সত্যি? ছেলেগুলোর মধ্যে একজন নতস্বরে উত্তর দিল, আসলে আমরা দুষ্টামি করে চোর চোর বলছিলাম আর তার পেছনে ছুটছিলাম। মুরুব্বী লোকটি এবার রাগ স্বরে করে তাদেরকে বলল, কেউ এখন দুষ্টামি করে নাকি! দেখলে তো, আজ কত বড় একটা কান্ড হতে চলেছিল। যাও! তোমাদের বন্ধু রাসেলকে নিয়ে বাড়িতে যাও। তারপর লোকটি আকাশকে লক্ষ্য করে বললো, তুমি অন্য এলাকা থেকে এসে এখানে সব সময় ঘুরাঘুরি কর কেন? এরকম করলে তো মানুষ সন্দেহ করবে। জান না, ঢাকা শহর যার যার এলাকায় তার তার ক্ষমতা থাকে। আকাশ তার কথা শুনে কোন উত্তর না দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। যাও! এখন বাড়িতে যাও! আর ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খেয়ে নাও। এ বলে লোকটি তাকে পাঠিয়ে দিল। তারপর সে অসুস্থতার কারণে এক সপ্তা স্কুলে আসতে পারিনি। লামিয়ার মুখে এই ঘটনা শুনে সাদিয়া বলে উঠলো, তোর সামনে হিরো সাঁজতে গিয়ে জিরো হয়ে গেল। সাদিয়া হাসি চেপে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করল। কিন্তু অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার মুখ দিয়ে হাসির আওয়াজ বের হয়ে গেল। লামিয়া তার মুখে হাসি দেখে গাম্ভীর্যপূর্ণ ভাব নিয়ে তার দিকে চোখ আড় করে তাকালো। তার চাহনি দেখে সাদিয়া হাসি থামিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তারপর কি হলো? সামিয়া বললো, এ ঘটনাটি ঘটার পর আমি তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়লাম। কেন যেন শুধু তার কথাই মনে পড়ে। দিন দিন আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আকাশকে আমি এর কিছুই বুঝতে দেইনি। এর প্রায় দুমাস পর আমাদের স্কুল থেকে শিক্ষা সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
এই সফরে স্কুলের প্রায় সব ছাত্রছাত্রী যাবে। সাথে দেখাশোনা করার জন্য কয়েকজন শিক্ষক শিক্ষিকাও যাবেন। আমরা সফরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম সোনারগাঁ পানাম জাদুঘরে। কারণ, শিক্ষার্থীদের জন্য জাদুঘরে অনেক কিছু শেখার আছে। খুব ভোরেই রওনা দিয়েছিলাম সেদিন। সেখানে পৌছে দুপুরের আগেই জাদুঘরও প্রদর্শন করে ফেললাম। কিন্তু কিছুতেই তৃপ্তি অনুভব করতে পারছিলাম না। নিজেকে কেমন যেন শূন্য শূন্য মনে হচ্ছিল। কারণ, আমাদের সাথে আকাশের আসার কথা ছিল। কিন্তু তাকে সকাল থেকেই দেখতে পাচ্ছি না। মুখ ফুটে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসাও করতে পারছিনা। খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর বান্ধবীরা বলল, তারা আশেপাশে ঘুরবে, পুরনো দিনের রাজবাড়ীগুলো পরিদর্শন করবে। আমি যেতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমাকে জোর করে নিয়ে যায় । তারা গল্প করছিল আর প্রাচীন বাড়িগুলো দেখছিল। আমি তাদের মাঝে বিদ্যমান থেকেও যেন অনুপস্থিত ছিলাম। কিছুদুর যাওয়ার পর আমি তাদের বললাম, তোরা সামনে যা, আমি এই পুকুর ধারে দাঁড়িয়ে আছি। তারা বলল, আচ্ছা ঠিক আছে। তুই যেতে না চাইলে এখানে দাঁড়িয়ে থাক! আমরা সামনের দিকটা ঘুরে আসছি। আমি পুকুরের পাশে গাছের নিচে উদাস মনে পায়চারি করছিলাম । এমন সময় পেছন থেকে কেউ একজন লামিয়া বলে ডাক দিল । আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি আকাশ! আকস্মিক তাকে দেখে আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম । ভাবছিলাম, এতদিন শুধু দূর থেকে আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো, কখনো কাছে আসার সাহস পেত না । আজ সে আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকছে । আমি যে তাকে মনে মনে খুঁজছিলাম, তা আমি তাকে বুঝতে দিলাম না । শান্ত কন্ঠে বললাম, কিছু বলবেন না কী? যা বলব, তা তুমিও জানো। তাই আজ তেমন কিছু বলবো না । তাহলে কি জন্য এসেছে? তোমাকে একটা জিনিস দিতে এসেছি । একথা বলে আকাশ তার পিছন থেকে লাল-সাদা আকর্ষণীয় ফুলের একটা তোরা আমার সামনে ধরে বলল, এর মধ্যে একটা চিরকুট আছে! পড়ে আমাকে জানাবে।
একথা বলা মাত্রই আমার বান্ধবীরা এসে উপস্থিত হলো । পাড়ায় এসে মৃদু কাশি দিয়ে মুচকি মুচকি হেসে বলল, কি ব্যাপার আকাশ ভাই হঠাৎ করে কোন গর্ত থেকে উদয় হলেন । সারাদিন তো আপনাকে দেখলাম না । আচ্ছা ঠিক আছে। আপনারা এখানে থাকেন! আমরা গাড়ির দিকে যাচ্ছি ।

