ব্যবস্থাপনার চক্র

S
shovon

 

ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ার অধীন কার্যসমূহের চক্রাকারে আবর্তিত হওয়াকে বুঝায়।ব্যবস্থাপনা হলাে কতিপয় কার্যের সমষ্টি। এরূপ কার্যাদি একটি ধারাবাহিক কর্মপ্রক্রিয়ার সৃষ্টি করে। প্রতিষ্ঠান যতদিন চলে ততদিন তা অবিরাম আবর্তিত হতে থাকে। ফলে এরূপ প্রক্রিয়ার সর্বশেষ কাজ আবার পরবর্ত্তীপ্রথম কাজের ভিত্তি হিসেবে গণ্য হয়। ব্যবস্থাপনার এরূপ ধারাবাহিক কর্মপ্রক্রিয়া ও অবিরাম আবর্তনকে

ব্যবস্থাপনা চক্র নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।ব্যবস্থাপনা একটি প্রক্রিয়া। ফলে তা ধারাবাহিক ও পরস্পর নির্ভরশীল কতিপয় কাজের সমষ্টি। পরিকল্পনা একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লক্ষ্য অর্জনের জন্য নেয়া হয়। এর আলােকে সংগঠন প্রতিষ্ঠা, কর্মীসংস্থান, নির্দেশ প্রদান, যােগাযােগ ও তত্ত্বাবধান, উৎসাহ প্রদান, বিভিন্ন ব্যক্তি ও বিভাগের কাজের মধ্যে সমস্বয়সাধন এবং কাজ

বা সময় শেষে নিয়ন্ত্রণ বা সংশােধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে। নিয়ন্ত্রণ কাজের মধ্য দিয়ে যে নির্দেশনা

বা সুপারিশমালা পাওয়া যায় তার আলােকে আবার নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়। এভাবে প্রতিষ্ঠান যতদিন চলে

ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া বা কার্যচক্রও ততদিন স্বাভাবিক নিয়মেই আবর্তিত হতে থাকে।বিষয়টিকে একটা উদাহরণের সাহায্যে তুলে ধরা যেতে পারে :

ধরা যাক, মি. খান তার শিল্প প্রতিষ্ঠানে নতুন একটা পণ্য তৈরির চিন্তা করছেন। এজন্য লক্ষ্য নির্ধারণপূর্বক

করণীয় নির্ধারণ করা হলাে। চিন্তার বাস্তবায়নে প্রয়ােজনীয় কী কী কাজ করতে হবে এবং প্রতিটা কাজ সংশ্লিষ্ট

ব্যক্তি বা বিভাগের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা কী হবে তা নির্ধারণ করলেন। প্রতিটা কাজের জন্য কোন কোন মানের

জনশক্তির প্রয়ােজন হবে তাও নির্ধারিত হলাে। যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ইত্যাদি কী লাগবে তাও ঠিক করে প্রথমেই

মি. খান প্রয়ােজনীয় লােকবল নিয়ােগ দিলেন। অতঃপর বক্তুগত উপকরণাদি জোগাড় করে দ্রুত উৎপাদনের

কাজে মনােযােগী হলেন। জনশক্তিকে প্রয়ােজনীয় নির্দেশ দেয়া, কাজ ঠিকমত হচ্ছে কি না তা দেখা ইত্যাদি

কাজে মি. খান ও ব্যবস্থাপকগণ ব্যস্ত সময় কাটালেন। নতুন কাজে সাফল্য আসলে জনশক্তিকে নানান সুযােগ-বযসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-দ্বিতীয় পত্র

বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০% কেন বাস্তবায়িত হয়নি তার পর্যালােচনায় কতকগুলাে সমস্যা চিহ্নিত হলাে। এ সমস্যা দূর করে কাজকে আরও সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা নিলেন মি, খান।ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তর

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে এবং উপায়-উপাদানের সুষ্ঠ ব্যবহারের লক্ষ্যে পরিকল্পনা, সংগঠন,নিদেশনা, প্রেষণা, সমস্বয় ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকে ব্যবস্থাপনা বলে। এ সকল কাজ প্রতিষ্ঠানের উচ্চন্তর হতে নিম্নস্তর

পর্যন্ত সকল স্তরেই কম বেশি সম্পাদন করা হয়। তাই ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কোনাে একটি মাত্র স্তরেই সীমাবদ্ধ এ কথা বলা যায় না। নিমে ব্যবস্থাপনার স্তরসমূহ আলােচনা করা হলো

প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের নির্বাহীদের সমন্বয়ে

গড়ে ওঠা ব্যবস্থাপনাকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে। প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও নীতি নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি

লক্ষ্য, কৌশল ও পরিকল্পনা প্রণয়নের সঙ্গে ব্যবস্থাপনার উচ্চ পর্যায় সম্পৃক্ত থাকে। কোনাে কোম্পানির পরিচালকমণ্ডলী, পরিচালকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, সচিব ও ক্ষেত্রবিশেষে জেনারেল ম্যানেজার এ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার আওতাভুক্ত।

মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা উচ্চ পর্যায়ে গৃহীত লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও নীতি-

নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিমন পর্যায়ের ব্যবস্থাপকগণকে কাজে লাগাতে ব্যবস্থাপনার যে পর্যায় কাজ করে তাকে মধ্য পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বলে। এরূপ পর্যায় উচ্চ ও নিম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মধ্যে সেতুবন্ধকের ভূমিকা পালন করে। এরূপ পর্যায় উচ্চ পর্যায়ে গৃহীত লক্ষ্য, নীতি, কৌশল ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়ােজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ,উপায়-উপকরণাদি সংগঠিতকরণ, পরিচালনা, নেতৃত্ব প্রদান, সমস্বয় এবং নিয়ন্ত্রণ কার্য পরিচালনা করে।

Comments