একজন বিজ্ঞ বিচারক
এক গ্রামে দুটি পরিবার বাস করতো। তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল না। এই পরিবারগুলোর দুই মহিলা একই সময়ে অন্তঃসত্ত্বা হয় এবং প্রায় প্রসবের সময়ে উপনীত হয়। তাদেরকে একই প্রসব বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। তাদের দুজনকে দেখাশোনা করার জন্য সেখানে একজন সেবিকা ছিলেন। প্রসবের সময় সেবিকা কাউকে বাড়ির ভেতরে আসতে দিলেন না। সেবিকা দেখলেন যে, একজন মহিলা একটি ছেলে বাচ্চা প্রসব করেছে, কিন্তু প্রসবের পরপরই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অন্যদিকে, অপর মহিলাটি একটি মৃত ছেলে বাচ্চার জন্ম দিয়ে খুব বিমর্ষ হয়ে পড়ে। সে তৎক্ষণাৎ একটি পরিকল্পনা করে। সে সেবিকাকে আয়ত্তে এনে মৃত শিশুকে বদলিয়ে সংজ্ঞাহীন মহিলাটির জীবিত বাচ্চাটিকে নিয়ে আসে। কয়েক মিনিট পর মহিলাটি তার জ্ঞান ফিরে পায় এবং তার পাশে মৃত সন্তান দেখে জোরে চিৎকার করে উঠে। সে বিশ্বাস করতে পারেনি যে, এই মৃত সন্তানটি তার। কোনো উপায়ন্তর না দেখে মহিলাটি ন্যায় বিচারের জন্য কাজীর কাছে যায়। কাজী মহিলাটির আবেদন খুব মনোযোগ সহকারে শোনেন। তারপর তিনি দুজন মহিলাকেই তলব করলেন। তিনি তাদেরকে সত্য কথা বলতে বলেন। উভয় মহিলাই জীবিত বাচ্চাটির দাবি করে। অবশেষে কাজী একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করলেন। তিনি উভয় মহিলাকে জানালেন যে বাচ্চাটি কেটে সমান দুই টুকরো করে এক টুকরো করে প্রত্যেককে দিবেন? অপ্রকৃত মা নীরব রইল এবং একটি শব্দও উচ্চারণ করলো না। এইভাবে কাজী প্ৰকৃত মাকে শনাক্ত করলেন এবং শিশুটিকে তার হাতে তুলে দিলেন। তিনি শিশুটিকে চুরির জন্য অপ্রকৃত মাকে শাস্তি দিলেন।

